Social Icons

twitterfacebookgoogle pluslinkedinrss feedemail
Showing posts with label Tantra. Show all posts
Showing posts with label Tantra. Show all posts

Thursday, December 10, 2015

The Veera Sadhana

As is the competency of the sadhaka (male practitioner) so also that of the sadhika (female practitioner). Only by this is success achieved and not in any other way, even in ten million years - Mahakalasamhita, quoted in Shakti and Shakta, Woodroffe

(This English translation of chapter 13 from the Brihad Nila Tantracovers meditation and the vira sadhana (heroic worship, which includes sexual intercourse) of Mahakali. It also outlines the principles of svecchacharya (the path of acting according to one's will) which is central to the Kaula school of tantra.)

Sri Bhairava said: Now I speak of the supreme mantra of Mahakali, bestowing all poesy. Listen attentively, O Maheshani. She is the primordial one, Prakriti, the beautiful woman, the primordial knower, with kalas, the Fourth, the ultimate mother, the boon giver, the desirable one, the lady of heroes, the giver of success to sadhakas.

She, the primordial one, Mahaprakriti, Kali, the true form of time, whose great mantra of all mantras is the ocean of mantra, she alone gives all success to a sadhaka who wants it. The destroyer of anxiety, giving boons, seated on a corpse, gives all desires, O Devi, and creates all marvels.

In this matter, purification of mind and determination as to defects or enmity in a mantra are unnecessary. In sadhana with this great mantra, there are no restrictions as to time, nor day, lunar mansion or obstacles caused by lunar mansions and so forth. Nor in Mahakali's sadhana is it necessary to consider guru.

Listen, Vararoha, to the all-poesy bestowing mantra. Two Hrims and two Hums, followed by three Krims and Dakshine Kalike, then pronouncing the previous bija mantras in reverse order, putting in front of it Om and Svaha last, is the mantra of twenty three syllables, the ultimately beautiful mantra. Using this king of mantras causes a person to become like Shiva, there is no doubt of it.

Bhairava is the rishi of the mantra, Ushnik is the metre, Mahakali is the Devi and Hrim is the seed. Hum is the Shakti and its application is well known. Vararohe, listen to the meditation. Reciting it gives siddhi, its practice gives the power of attraction, and it causes pashus to become viras.

I worship the greatly beautiful one, with limbs the colour of thunderclouds, who is naked and sits on the corpse of Shiva, who has three eyes and earrings made of the bones of two young handsome boys, who is garlanded with skulls and flowers. In her lower left and upper right hands she holds a man's head and a sword, her other two hands bestowing boons and banishing fear. Her hair is greatly dishevelled. Using this meditation, worship and satisfy the Paramesvari.

Listen, beauteous one, to the Gayatri, which gives all knowledge when recited. Saying Kalikayai and vidmahe, then say shmashanavasinyai dhimahi, and then tanno ghore pracodayat. Devi, after reciting it twenty times, it is the giver of all prosperity. Recite it 20,000 times to achieve success in its preparation. Do homa of a tenth part, oblation of a tenth part of that, and abhiseka of a tenth part of that. Then feed Brahmanas. Do everything necessary within the sadhana, then dismiss Devi and throw the pot into water.

I speak now of the great ritual which bestows both the visible and the invisible. Mantras become successful using this rite, which is to be performed in the first or third watch at night, and are powerless otherwise.

O Mahesvari, do vira sadhana in a house, or elsewhere on earth. Make a small platform strewn with bunches of plantain leaves and place on this a pot smeared with vermilion. In the pot place mango shoots and wine made of khadira blossoms, as well as asvattha and badari leaves. Also place in the pot pearl, gold, silver, coral and crystal and then strive to accomplish vira sadhana.

Draw a matrika cakra, placing the pot on top of it. A mantrin should put it on a cloth, facing the northern direction. After worshipping with various substances, one should offer food, unguent, mutton and the most attractive sorts of food. Then, O Devi, offer curd to the great goddess.

Have there a young and beautiful girl, adorned with various jewels. After combing her hair, give her tambula and draw two Hrims on her breasts, Aim on or near her mouth, and draw two Klims on either side of her yoni. Drawing her towards you by her hair, caress her breasts and then place the linga into her yoni pot.

O pure smiling one. Recite the mantra 1,000 times, O sweet faced one. Dearest, one becomes accomplished by doing the rite for a week. Maheshani, recite the mantra not in the manner written of in books, but in her yoni. This brings mantra siddhi, there is no doubt of it. So, Devi, the secret thing giving all desires has been declared to you. One should not reveal it, one should never reveal it, Maheshani.

O Naganandini, at the risk of your life, never reveal it. It is the giver of all siddhi. I cannot speak of the magnificence of this mantra. Had I ten thousand million mouths and ten thousand million tongues, I could still not speak of it, O Paramesvari.

It is the most secret thing in the three worlds, very hard to obtain, the great pitha Kamarupa, giving the fruit of all desires. Maheshani, reciting in this way gives endless fruit, if, by the power of good fortune one attains this pitha. O Maheshani, after reciting the mantra there, it gives endless fruit. Bhairavi, siddhi resides in that high place (described in) this tantra, without doubt.

Friday, November 28, 2014

কিছু কথা

আমাদের মনে তন্ত্র সম্বন্ধে অনেক সংস্কার জমা হয়ে আছে যা আমাদের দৃষ্টি ভঙ্গী কে স্বচ্ছ হতে দেয় না। আর আমরা তন্ত্র সম্বন্ধে কিছু মন গড়া কাল্পনিক চিন্তা ভাবনা কে এমন ভাবে বিশ্বাস করতে শুরু করি যে তা আমাদের কাছে সত্য বলে প্রতিভাত হতে থাকে। এক জন তান্ত্রিকের সর্ব প্রথম কর্তব্য হল নিজের দৃষ্টি ভঙ্গী কে স্বচ্ছ করা, মনকে সব রকম সংস্কার থেকে মুক্ত করা।

কারণ তন্ত্র কোন আর্য সভ্যতার দান নয়। গুহা মানব যখন আগুনের ব্যবহার শুরু করে সভ্যতার প্রথম সোপানে তার পা রেখেছিল তন্ত্র বিদ্যা তখন থেকেই তার সাথে পা ফেলা শুরু করেছিল। আমাদের বহু প্রাচীন জ্ঞান-ধারনা এবং বিশ্বাস এই তন্ত্রের মাধ্যমেই সুরক্ষিত রয়ে গিয়েছিল বলেই আর্য সভ্যতা একটা বিশেষ আঙ্গিক পেয়ে প্রগতির চরম উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে আজ এত জনপ্রিয়। অনেকের মনে ধারনা আছে তন্ত্র বেদ থেকে বিশেষ করে অথর্ব বেদ থেকে নিষ্কাশিত হয়ে এসেছে। আমি এই মতে বিশ্বাসী নই কারণ তন্ত্র বেদের থেকে সম্পূর্ণ একটি অন্য ধারা, আর্য সমাজের জীবন চর্যার সাথে তন্ত্রের রীতি নীতি ইত্যাদির কিছু মিল পাওয়া যায় না। বরঞ্চ এটা বলা যায় যে তন্ত্রের সাথে মিশে গিয়ে বৈদিক সভ্যতা তার নিজস্ব পথ থেকে সরে এসে এমন একটা রূপ গ্রহণ করে যা জম্বু দ্বীপের মানুষদের কাছে গ্রহণ যোগ্য হয়।

তন্ত্রের মুল উদ্দেশ্য মানুষের হিত সাধন এবং কেবল মাত্র হিত সাধন। মানবতার যে দিকটি তন্ত্র সকল সময়ে খেয়াল রেখে চলে তা হল সাম্যবাদ। তন্ত্রে প্রত্যেকের সমানাধিকার আছে। কারণ তন্ত্র শিক্ষার কেবল মাত্র একটি মাত্র যোগ্যতা প্রয়োজন হয় তা হল মানব দেহ। মানব আকৃতি এই জন্যই দেবতা, পিশাচ(?) নাগ, গন্ধর্ব, দৈত্য, বানর ইত্যাদি বৈদিক যুগের যে সমস্ত মানব জাতি পরিলক্ষিত হত সকল জাতির মধ্যে তন্ত্র সাধনা লক্ষ্য করা যেতো। তন্ত্রের একমাত্র আরাধ্য দেবতা হলেন পশুপতি শিব। এই জন্যই আমরা আর্য সভ্যতা ভারত ভূমিতে প্রবেশ করবার বহু আগে থেকেই সিন্ধু সভ্যতা ইত্যাদিতে তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ স্বরূপ মূর্তি ইত্যাদি পেয়েছি। তাকে মহেশ্বর এই জন্যই বলা হয়ে থাকে যে ঈশ্বরের ধারনা গঠন করার আগে থেকেই তার অর্চনা সমগ্র বিশ্ব বাসী সেই অনাদি কাল থেকে করে আসছে।

কালপুরুষ নামে যে নক্ষত্র মণ্ডলী আকাশের মাঝে ধনুর্বাণ হাতে শিকারই রূপ গ্রহণ করে আছে সেই হল তার আদি রূপ। সেই অরূপ যখন প্রথম রূপ পরি গ্রহণ করেন তখন তিনি ওই কাল পুরুষ রূপেই প্রথম প্রকাশিত হন, এবং তার পায়ের কাছে যে কুকুর বসে আছে লুব্ধক নামে তিনিই ধর্ম। আমরা তাই আমাদের বৈদিক গ্রন্থ গুলিতে দেখতে পাই ধর্ম দেবতা কে কুকুরের রূপ পরিগ্রহ করতে।

যখন আমরা কোণ জাতি গঠন করিনি তার আগে থেকেই তন্ত্র আমাদের সাথে থাকার জন্যই তন্ত্রে কোন জাতের বিচার নেই এবং জ্ঞান মূলক এই ধর্মে কোন জাতি বিচার প্রয়োজন হয় না। যেটুকু প্রয়োজন হয় তা মানব শরীরের বিচিত্রতার জন্য। এই জন্যই তন্ত্রে জাতি বিচার নেই আছে প্রকৃতি বিচার। জ্ঞান হীন প্রত্যেক মানব দেহই হল পশু দেহ আর এই দেহের কর্তা পশুপতি।

আর আমাদের মন, প্রবৃত্তি সব কিছুই হল একটি পক্রিয়া, যার গতি মানতা এবং কারণ সম্বন্ধ তাকে বিভিন্ন ভাবে ব্যখাত করে থাকে। তন্ত্র কে বুঝতে হলে অনুভব প্রয়োজন। আর সঠিক অনুভবের জন্য মন কে পরিষ্কার রাখা আরও বেশী প্রয়োজন। চিমটাতে করে অঙ্গার তুললে যেমন আমরা তার তাপ অনুভব করতে পারি না , সংস্কার মুক্ত মন ছাড়া তেমনি তন্ত্র কে কোন দিন অনুভব করা যাবে না।

কারণ আমরা ছোট বেলা থেকেই অনেক কথা শুনে শুনেই বিশ্বাস করে নিয়ে থাকি, সেই কথা গুলিকে ত্যাগ না করলে মিথ্যার অতল সাগরে থেকে কিভাবে আমরা এই সর্ব জন গ্রাহ্য লোক মঙ্গলকারী স্বয়ং শিব হতে আগত এই মহা জ্ঞান গঙ্গা তে স্নান করতে পারবো। তবে হ্রদয়ে যদি চেষ্টা থাকে তাহলে সমগ্র শরীর সেই রাস্তা খুঁজে পাওয়ার জন্য উৎসুক হয়ে থাকে। সামান্য তম চেষ্টা তেই তখন সাফল্য এসে যায়। এর জন্য চোখ বুজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকার প্রয়োজন অনেক সময় পড়ে না। মানুষ চাঁদে যাওয়ার কথা ভেবেছিল বলেই আজকে সে চাঁদে চাষবাস করার কথাও ভাবছে। আমাদের সেই চেষ্টা টুকু করতেই হবে। না হলে মূর্তি আর উপাসনা ঘরে পৃথিবী ভর্তি হয়ে গেলেও ধর্মের এক পা হাঁটাও হবে না। তন্ত্র ই এক মাত্র এমন ধর্ম যার জন্য মানুষের কোন মূর্তি বা উপাসনার প্রয়োজন নেই, প্রকৃতির বিস্তৃত চারণ ভূমিই তান্ত্রিকের মন্দির, প্রকৃতির একটি অণু ই তার চিন্ময় মূর্তি।

Sunday, December 22, 2013

ইতি মোহ-মুদ্গর


শত্রৌ মিত্রে পুত্রে বন্ধৌ মাকুরু যত্নং বিগ্রহসন্ধৌ।
ভব সমচিত্তঃ সর্ব্বত্র ত্বং বাঞ্ছস্যচিরাদ্‌ যদি বিষ্ণুত্বং।।৯।।
শত্রু-মিত্র পুত্র-বন্ধু বান্ধব আদি যা কিছু সম্পর্ক আছে এদের সাথে এবং ঝগড়া সন্ধি ইত্যাদি বিষয়ে বিশেষ যত্ন করার কোন দরকার নেই। ভগবান চারিপাশে ব্যাপ্ত আছেন এই কথাটি মনে রেখে সকলের প্রতি সমান যত্ন নেওয়ার চেষ্টা সব সময়েই করা উচিত।
অষ্টকুলাচলসপ্তসমুদ্রাঃ ব্রহ্মাপুরন্দরদিনকররুদ্রাঃ।
ন ত্বং নাহং নায়ং লোকঃ তদপি কিমর্থং ক্রিয়তে শোকঃ।।১০।।
এই মহাদেশ সসাগরা জগৎ সংসার ব্রহ্মা (সৃষ্টি কর্তা), ইন্দ্র (ভোগ কর্তা), সূর্য্য (পালন কর্তা), রুদ্র (সংহার কর্তা) কতৃক পরিচালিত হয়। তুমি-আমি এই লোক সমূহে ক্ষণ ভঙ্গুর পদার্থ মাত্র। তাহলে কিসের জন্য তুমি দুখঃ শোকে জর্জরিত হয়ে থাকো!
ত্বয়ি ময়ি চান্যত্রৈকোবিষ্ণুঃ ব্যর্থং কুপ্যসি ময্যসহিষ্ণুঃ।
সর্ব্বং পশ্য আত্মনাত্মানং সর্ব্বতোৎসৃজ ভেদজ্ঞানম্‌।।১১।।
তুমি আমি আর কেউ নই আমরা সেই এক সর্ব্বঘটে পরিব্যাপ্ত ব্যাপ্তময় বিষ্ণু এর জন্য ব্যর্থই আমার প্রতি অসিহষ্ণুতা বশত রাগ করে থাকো। চেয়ে দেখ চারিদিকে যা কিছু দেখতে পাচ্ছ সব তোমারই আত্মারই অংশ, আত্মার আত্মীয়। সুতারং যত্ন সহকারে মন থেকে এই ভেদজ্ঞান দূর করে দাও।
বালস্তাবৎ ক্রীড়াসক্ত-স্তরুণস্তাবৎ তরুনীরক্তঃ।
বৃদ্ধস্তাবচ্চিন্তামগ্নঃ পরমে ব্রহ্মণি কোহপি ন লগ্নঃ।।১২।।
বালকেরা যেরকম খেলার প্রতি আসক্ত, তরুনরা যেরকম তরুনীদের প্রতি আসক্ত, বৃদ্ধেরা যে রকম বিষয় চিন্তার প্রতি আসক্ত থাকে, পরম ব্রহ্মেকে জানার জন্য সেই রকম আকুল করা আসক্তি দেখ কারো মধ্যে দেখা যাচ্ছে না।
অর্থমনর্থং ভাবয় নিত্যং নাস্তি ততঃ সুখলেশঃ সত্যং।
পুত্রাদপি ধনভাজাং ভীতিঃ সর্ব্বত্রৈষা কথিতা নীতিঃ।।১৩।।
অনর্থকারী অর্থ চিন্তায় সব সময়ে ডুবে আছো কিন্তু জেনে রাখো তাতে লেশ মাত্র সত্যিকারের সুখ নেই। হে ধনী, সংসারের লোকেরা এমনকী নিজের সন্তানরাও তোমাকে যে শ্রদ্ধা ভক্তি প্রদর্শন করে তা তোমার ধন প্রাপ্ত করার জন্য। সব সময় এমনি হয়ে থাকে নীতিকথাতে তাই বলা আছে।
যাবদ্বিত্তোপার্জ্জনশক্তঃ তাবন্নিজপরিবারো রক্তঃ।
তদনু চ জরয়া জর্জ্জরদেহে বার্ত্তাং কোহপি ন পৃচ্ছতি গেহে।।১৪।।
যতদিন তুমি অর্থ উপার্জন করতে পারবে ততদিন তোমার পরিবারের সকলে তোমার খুব অনুরক্ত থাকবে। তুমি যা বলবে তাই হবে, তোমার কথায় সবাই ওঠা বসা করবে। তারপরে যখন সময়ের চক্রে জরা ব্যাধি ইত্যাদি এসে তোমার দেহে বাসা বাধবে, নড়বড়ে হয়ে তুমি বিছানায় শুয়ে থাকবে, তোমার বাড়িতেই তোমারই পরিবারের কেউ আর তোমার কথা জিজ্ঞেস করবে না, তোমার সাথে কথা বলবে না, তোমার সঞ্চিত অর্থের দ্বারা কোন সেবাদাসী নিয়োজিত হয়ে তোমার সামনে বসে খবরের কাগজ পড়বে।
কামং ক্রোধং লোভং মোহং ত্যক্ত্বাত্মানং পশ্যতি কোহহং।
আত্মজ্ঞানবিহিনা মূঢ়া স্তে পচ্যন্তে নরকে নিগূঢ়াঃ।।১৫।।
কাম, ক্রোধ, লোভ ও মোহ চেষ্টা করে পরিত্যাগ কর। নিজের আত্মাকে জানার চেষ্টা কর, তুমি কে? এই আত্মজ্ঞান না হলে তুমি মূর্খই রয়ে যাবে। এই জীবন-মৃত্যু ময় সংসারে জন্ম জন্মান্তর ধরে পচতে হবে।
ষোড়শপজ্ঝটিকাভিরশেষঃ শিষ্যানাং কথিতোহভ্যুপদেশঃ।
যেষাং নৈব করোতি বিবেকং তেষাং কঃ কুরুতে মতিরেকং।।১৬।।
এই ঝাড়া ষোলটি পদের দ্বারা শিষ্যদের সবাইকে আমি উপদেশ প্রদান করলাম। কিন্তু এতেও যার বিবেক জাগ্রত হয় না তার সেই এক পরব্রহ্মে মতি কিভাবে হবে?

-ইতি মোহ-মুদ্গর সম্পূর্ণ। 

Saturday, December 21, 2013

মোহ মুদ্গর (ভাগ- প্রথম)


তন্ত্র সাধনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল জাগতিক বিষয়ে সত্য জ্ঞান। মানব মন স্বভাবত সুখ সন্ধানী। এই সুখের জন্য
মানুষের মন এই জগৎ থেকে যে সমস্ত তথ্যাবলী তার পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে পেয়ে থাকে তার মধ্যে যে গুলি সুখকর সেই গুলি স্মৃতিকোষে সঞ্চিত রাখে। বাকি গুলিকে পরিত্যাগ করে থাকে। মানুষের মনে এই জগত সম্বন্ধে এক ভ্রান্ত ধারনা হয়ে থাকে। এর জন্য দায়ী কেউ নয়, দায়ী একমাত্র তার মন এবং মনের স্বভাব। মনের এই স্বভাব কে আমরা মোহ বলে থাকি। এই মোহের বশে সদ বস্তু অসদ এবং অসদ বস্তু সদ বলে প্রতিভাত হতে থাকে। মনের এই ক্রিয়ার ফলে জগতের কিছু লাভ ক্ষতি হোক বা না হোক মনের হয়ে থাকে। তাই মনকে শিক্ষিত করতে হয়। এর জন্য স্বয়ং শিব স্বরূপ ভগবান শংকরাচার্য্য তার মোহ মুদ্গর নামক গ্রন্থে মনের এই ভ্রান্ত সংবেদন কে নিয়ন্ত্রিত করার কথা বলেছেন।

মুঢ় জহীহি ধনাগমতৃষ্ণাম কুরু তনুবুদ্ধে মনসি বিতৃষ্ণাম্‌।
যল্লভতে নিজকর্ম্মোপাত্তম্‌ বিত্তং তেন বিনোদয় চিত্তম্‌।।১।।
হে মূঢ় জন কেবলমাত্র অর্থ উপার্জনের তৃষ্ণা পরিত্যাগ কর। এই ধরনের চিন্তা তোমার মনকে কেবলমাত্র জাগতিক করে দেবে সুতারং মনে এর জন্য বিতৃষ্ণা সৃষ্টি কর। তোমার উত্তম কর্ম্মের দ্বারা উপার্জিত যে অর্থ তোমাকে স্বচ্ছল রাখে তার দ্বারাই তোমার মনকে খুশী রাখো।
কা তব কান্তা কস্তে পুত্রঃ সংসারোহয়মতীববিচিত্রঃ।
কস্য ত্বং বা কুতঃ আয়াতঃ তত্ত্বং চিন্তয় তদিদং ভাতঃ।।২।।
কে তোমার স্ত্রী? কেই বা তোমার সন্তান? এই সংসার হল অতীব বিচিত্র। তুমি কার? তুমি কোথা থেকে এসেছ? তত্ত্ব সহকারে এই বিষয়ে চিন্তা করে দেখ।
মা কুরু ধনজনযৌবনগর্বম্‌ হরতি নিমেষাৎ কালঃ সর্ব্বম্‌।
মায়াময়মিদমখিলং হিত্বা ব্রহ্মপদং প্রবিশাশু বিদিত্বা।।৩।।
ধন, জন ও যৌবনের গর্ব না করাই ভাল কারন সময় এই সকলকে নিমেষে গ্রাস করে ফেলে। এই অখিল জগতকে মায়াময় জেনে সেই পরম ব্রহ্ম পরমপুরুষের চরণে আশ্রয় গ্রহন করাই তোমার পক্ষে ভালো।
নলিনীদলগতজলমতিতরলং তদ্বজ্জীবনমতিশয়চপলং।
ক্ষণমিহ সজ্জনসঙ্গতিরেকা ভবতি ভবার্ণবতরণে নৌকা।।৪।।
পদ্মপাত্রার উপর জলবিন্দু যে রকম অস্থির প্রানীর মধ্যে প্রাণও সেই রকম অস্থির। তাই এই ক্ষণজীবনে যদি ক্ষণকালের জন্যও সাধুসঙ্গ করে থাকো তাহলে এই ভব সাগরে হতে সেই সাধু সঙ্গ নৌকা হয়ে তোমাকে পার করে দেবে।
যাবজ্জনমং তাবন্মরনণং তাবজ্জননীজঠরে শয়নং।
ইহ সংসারে স্ফূটতরদোষঃ কথমিহ মানব তব সন্তোষঃ।।৫।।
প্রাক প্রসব অবস্থা, জন্ম, মৃত্যু এগুলি ক্রমাগত, এই সংসারের এই ক্ষণ ভঙ্গুর রূপ তুমি স্পষ্ট ভাবে দেখতে পাও। তাহলে হে মানুষ তুমি কিসে সন্তুষ্ট থাকো?
দিনযামিন্যৌ সায়ম্প্রাতঃ শিশিরবসন্তৌ পুনরায়াতঃ।
কালঃ ক্রীড়তি গচ্ছত্যায়ুঃ তদপি ন মুঞ্চত্যাশাবায়ুঃ।।৬।।
দিন-রাত্রি, সন্ধ্যা-সকাল, শীত-বসন্ত কতবার আসে কতবার চলে যায়, সময়ের এই খেলা দেখতে দেখতে আয়ু শেষ হয়ে যায় কিন্তু তবুও এই বায়ুর মত অফুরন্ত আশা মানুষের আর ফুরায় না।
অঙ্গং গলিতং পলিতং মুণ্ডম্‌ দন্ত-বিহীনং জাতং তুণ্ডম্‌।
করধৃতকম্পিতশোভিতদণ্ডম্‌ তদপি ন মুঞ্চত্যাশাভাণ্ডম্‌।।৭।।
অঙ্গ সকল কুঁচকে গিয়ে এমন হয় যেন গলে গলে পড়ছে, মাথা থেকে সব চুল উঠে যায়, দাঁত পড়ে গিয়ে মুখ বিবর চুপসে যায়, ঠুকরে ঠুকরে হাঁটে, হাতে ধরে থাকা লাঠিটাও যখন থর থর করে কাঁপতে থাকে তখনো মানুষ এই আশা নামক ফাঁকা মাটির হাঁড়িটা ছাড়তে চায় না।
সুরবরমন্দিরতরুতলবাসঃ শয্যাভূতলমজিনং বাসঃ।
সর্ব্বপরিগ্রহভোগত্যাগঃ কস্য সুখং ন করোতি বিরাগঃ।।৮।।
সেই দেবতাদের মন্দির স্বরূপ তরুতলে যদি বাস করা হয়, পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠ কে শয্যা করা হয় এবং অজিন বসন যদি পরিধান করা হয় এবং সংসারের সকল ভোগে ত্যাগে আগ্রহ না রেখে সব কিছু পরিত্যাগ করে দেওয়ার এই বৈরাগ্যভাব কাকে না খুশি করে।

continue..

Tuesday, December 17, 2013

Shiv Vashikaran Mantra

This is a Attraction Mantra or Vashikaran Mantra from the Rudrayamala tantra [रुद्रयामलतन्त्रम] an ancient and rare Hindu religious text. This text is dedicated to the Rudra Avatar or the fierce manifestation of Shiva.

मंत्र

ॐ वज्रकरण शिवे रुध रुध भवे ममाई अमृत कुरु कुरु स्वाहा ll

Mantra

English Translation

Om vajrakaran shive rudh rudh bhave mamae amrut kuru swaha ll


This Mantra has to be recited 10,000 times to achieve Siddhi[Mastery].There after achieving Siddhi the following Vashikaran experiments can be practices, by the divine vibrations of this Mantra. The articles required for the Vashikaran experiments are easily available in most Ayuurveda shops in India.

1. During the Solar Eclipse the root of the white Sirpunkha [सरपुंखाकी जड़] has to be procured and made into a paste mixed with water. This paste has to be applied in the Eyes as Anjan [Anoint] doing this will bring the King [Ruler] and the public under your spell.

2. Mustaki Jad [मुस्ताकी जड़] is to be kept in the mouth and the name of the person you wish to attract has to be taken, this will bring that person under your spell of attraction.

3. Mustamul [मुस्तामूलं] if Embossed in gold will bring you happiness and lots of wealth will come your way.

4. Mustamul [मुस्तामूलं] if turned into a paste along with Sandalwood and if applied on your forehead as Tilak [Religious Mark applied with thumb] will attract any member of the opposite sex who sees the Tilak.

5.Mansil [मनसिल], Gorochan [गोरोचन] and Mustaki Jad [मुस्ताकी जड़] if mixed into water and turned into a paste, and applied as Tilak [Religious Mark applied with thumb] taking the name of the person you wish to attract, will bring that person under your spell of attraction.

Disclaimer-These Mantras and experiments have been given for information purposes only.

Tuesday, December 10, 2013

আত্মজ্ঞান নির্ণয় (ভাগ-১)


যাবন্ন ক্ষীয়তে কর্ম্ম শুভঞ্চাশুভজেন বা।
তাবন্নাজায়তে মোক্ষো নৃণাং কল্পশতৈরপি।।১।।
মানুষের যতক্ষণ পর্যন্ত শুভাশুভ ফল ভোগী কর্ম লয় প্রাপ্ত না হয় ততদিন শত কল্প বিগত হলেও মানুষের মোক্ষ লাভ হয় না। কারণ মানুষ যতক্ষণ না তার সমস্ত কর্ম পরিত্যাগ করে বা কর্মের কর্তা হিসাবে নিজেকে ফলাফল ভোগী মনে করবে সেই কর্ম ফল মানুষকে মুক্ত হতে দেয় না এবং বারে বারে তাকে এই জীবন চক্রের পীড়া সহ্য করতে হবে। তাই নানা জায়গায় ভগবান বারে বারে বলেছেন কর্ম করে যাও এবং কর্মের কর্তা হিসাবে ভগবান কে মনে কর। তাহলে কর্ম ফল সেই মহান কর্তার উপরে বর্তাবে এবং জীব পাপ পুণ্য বিরহিত হয়ে সেই অমৃত লোকের সন্ধান পাবে।
যথা লৌহময়ৈঃ পাশৈঃ পাশৈঃ স্বর্ণময়ৈরপি।
তাবদ্বদ্ধো ভবেজ্জীবঃ কর্ম্মভিশ্চ শুভাশুভৈঃ।।২।।
শৃঙ্খল সে লোহার হোক বা সোনার হোক তা কেবল বেঁধে রাখতেই কাজে লাগে সেই রকম কর্মফল শুভ হোক বা অশুভ তা জীবকে বন্ধনে আবদ্ধ করে রাখে। তাই জীব যতক্ষণ না তার সমস্ত কর্ম সেই মহান শিব চরণে অর্পিত করে ততক্ষণ তার কর্ম বন্ধন হতে মুক্তি লাভ হয় না।
কুর্ব্বাণঃ সততং কর্ম্ম কৃত্বা কষ্টশতান্যপি।
তাবন্ন লভতে মোক্ষং যাবৎ জ্ঞানং ন জায়তে।।৩।।
শত কষ্ট সহ্য করেও যদি সর্বদা কর্মে রত থাকা যায় তবুও মোক্ষ লাভ হয় না যতক্ষণ না জীবের আত্ম জ্ঞান হয়। যাগ-যজ্ঞ, জপ-তপ, ব্রত-উপবাস ইত্যাদি কর্ম মানুষ অনেক কষ্ট সহ্য করে করে থাকে। কিন্তু মানুষের মধ্যে যতক্ষণ না পূর্ণ জ্ঞানের প্রকাশ হয় ততক্ষণ এই সমস্ত কর্মের দ্বারা সে মোক্ষ লাভ করাতে পারে না। তাই মানুষের উচিত সর্ব প্রকারে সেই চেষ্টা করা যাতে মানুষের আত্ম জ্ঞান লাভ হয়ে থাকে।
জ্ঞানং তত্ত্ববিচারেণ নিষ্কামেনাপি কর্ম্মণা।
জায়তে ক্ষীনতমসাং বিদুষাং নির্ম্মলাত্মনাম্‌।।৪।।
জ্ঞানের দ্বারা তত্ত্ব সমূহকে বিচার করে ও নিষ্কাম ভাবে সকল কর্ম সম্পাদন করলে মনের অন্ধকার নাশ হতে থাকে এবং জীব বিদ্বান ও নির্ম্মলাত্মা হয়ে ওঠে। মানুষ জ্ঞানের আলোকে আলোকিত হতে থাকে।
ব্রহ্মাদিতৃণপর্য্যন্তং মায়য়া কল্পিতং জগৎ।
সত্যমেকং পরং ব্রহ্ম বিদিত্বৈবং সুখী ভবেৎ।।৫।।
ব্রহ্মাদি দেবতা থেকে সামান্য ঘাস অবধি সকল পদার্থে পূর্ণ এই জগত হল মায়া দ্বারা কল্পিত। তাই যিনি সেই একমাত্র সত্য পরম পুরুষ কে জানতে পারেন তিনিই প্রকৃত সুখী হতে পারেন।
বিহায় নামরূপাণি নিত্যে ব্রহ্মণি নিশ্চলে।
পরিনিশ্চিততত্ত্বো যঃ স মুক্তঃ কর্ম্মবন্ধনাৎ।।৬।।
নাম এবং রূপ পরিত্যাগ করে যিনি সেই নিত্য নিশ্চল ব্রহ্মকে তত্ব সহকারে জেনেছেন তিনি নিশ্চয় এই শুভাশুভ কর্ম বন্ধন থেকে মুক্ত হয়েছেন। এই দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান জগত কে আমরা নির্দিষ্ট নাম এবং আকার অনুযায়ী জেনে থাকি, কিন্তু যিনি এই সমস্ত জগতে একমাত্র সেই পরম পুরুষ কে দেখতে পান তিনি যথার্থ জ্ঞানী হওয়ার জন্য তিনি মুক্ত।
ন মুক্তির্জপনাদ্ধোমাদুপবাসশতৈরপি।
ব্রহ্মৈবাহমিতি জ্ঞাত্বা মুক্তো ভবতি দেহভৃৎ।।৭।।
জপ, হোম ও শত শত উপবাস করলেও জীব মুক্তি লাভ করে না। কিন্তু সেই ব্রহ্মকে নিজের স্বরূপ হিসাবে দেখতে পেলেই এই দেহ ধারণ করেই মোক্ষ লাভ হয়ে থাকে। সেই পরম পুরুষ যদি সর্ব ব্যাপক হয়ে থাকেন তাহলে আমার মধ্যেও নিশ্চয় তিনি আছেন, তাই আমার মধ্যে তাকে যখন আমি আবিষ্কার করে থাকি তখন আমার স্বরূপ উপলব্ধি হয়ে থাকে। আর এই উপলব্ধি বিশেষ জ্ঞানের উৎপত্তিস্থল এবং এই বিশেষ জ্ঞান হয়ে থাকলেই জীব সমদর্শী হয়ে মুক্তি লাভ করে থাকে।
আত্মা সাক্ষী বিভু: পূর্ণ: সত্যেহদ্বৈতঃ পরাৎপরঃ।
দেহস্থোহপি ন দেহস্থো জ্ঞাত্বৈবং মুক্তিভাগ্‌ভবেৎ।।৮।।
আত্মা কে জাগ্রত, নিদ্রিত ও সুষুপ্ত এই তিন অবস্থার সাক্ষীস্বরূপ, সর্বব্যাপী ষড়ৈশ্বর্য্যপূর্ণ, সত্য, অদ্বৈত, পরাৎপর অথচ এই দেহস্থ হয়েও দেহস্থ নয় এইভাবে যিনি জেনেছেন তিনি মোক্ষলাভ করে থাকেন।
বালক্রীড়ানকং সর্ব্বং রূপনামাদিকল্পনাম্‌।
বিহায় ব্রহ্মনিষ্ঠো যঃ স মুক্তো নাত্র সংশয়ঃ।।৯।।
বাচ্চাদের খেলনার মত যিনি এই মায়াকল্পিত নাম রূপ ইত্যাদি পার্থিব সামগ্রিকে পরিত্যাগ করে কেবল মাত্র ব্রহ্মনিষ্ঠ হয়ে থাকেন তিনি যে সদা মুক্ত তাতে কোণ সন্দেহ নেই। বাচ্চারা যেমন খেলনা নিয়ে খেলার সময় এই পুতুল কে বাবা, ওই পুতুল কে কাকা, মাসী পিসি ইত্যাদি মনে করে খেলে এবং খেলা শেষ হলে সেই পুতুল গুলিকে মাটিতে ফেলে দিয়ে চলে যায় এবং সেই পুতুলগুলির কথা তার মনেই আসে না তেমনি যে জ্ঞানী ব্যাক্তি নাম এবং রূপ সর্বস্ব এই সংসারের মায়া কাটিয়ে সেই পরম পুরুষ শিবের ধ্যানে নিমগ্ন থাকতে পারেন তিনিই মুক্ত।
মনসা কল্পিতা মূর্ত্তি নৃণাঞ্চেন্মোক্ষসাধনী।
স্বপ্নলব্ধেন রাজ্যেন রাজানো মানবো স্তদা।।১০।।

মনের দ্বারা কল্পিত দেব-দেবীর প্রতিমূর্তি যদি জীবকে মোক্ষদান করতে পারতো তাহলে স্বপ্নে মানুষ যে নিজেকে রাজা উজির হতে দেখে তার ফলে সে রাজা হতে পারে না কেন?  মানুষ কল্পিত আকার বিশিষ্ট দেব-দেবীর উপাসনাতে মানুষের চিত্তশুদ্ধি হতে পারে সত্য কিন্তু তার দ্বারা মুক্তিলাভের আশা করা যায় না। (continue...)

Monday, December 09, 2013

শিব-গীতা

শিব-গীতা

প্রথম অধ্যায়

প্রথমে প্রনতি জানাই দেব নারায়ণে।

জয় দেবি সরস্বতি মতি শিব জ্ঞানে।।

কহিলেন সূত সব ঋষিগন প্রতি।

গীতা শাস্ত্র অধ্যয়ন মুক্তিদায়ী অতি।।

মহেশের অনুগ্রহে করিনু ব্যাখ্যান।

মহাদুখঃ তরিবার শিব উপাখ্যান।।

বেদকর্ম, দান, তপ যত করা যায়।

মানব কৈবল্যপদ কভু নাহি পায়।।

কৈবল্য লাভে পথ কিছু নাই আর।

একমাত্র জ্ঞানই পথ শুদ্ধ জ্ঞান সার।।

পুরাকালে দণ্ডবনে শুনিলেন রাম।

শিবমুখে গোপনীয় শিব উপাখ্যান।।

যা স্মরণে মানবের মুক্তি হয় ত্বরা।

স্কন্দ হতে শুনেছিল সনৎ কুমারেরা।।

ব্যাসদেব তাহা শুনে কুমার দ্বয় হতে।

কৃপা করি বলিলেন এই সূতপুতে।।

করি সাঙ্গ উপাখ্যান ব্যসদেব কহে।

কহিওনা তারে যে অধিকারী নহে।।

আমার বাক্যের যদি করহে অন্যথা।

দেবগণ রুষ্ট হয়ে শাপ দিবে তথা।।

অনন্তর জিজ্ঞাসিনু দেব বেদব্যাসে।

দেবগন রুষ্ট হবেন কিসের অভ্যাসে।।

কি কারনে তাহাদের হইবে কি হানি।

ক্রুদ্ধ হবে দেবগন ইচ্ছা হয় জানি।।

তাহা শুনি কহিলেন পরাশরসূত।

কারন শ্রবণ কর অতীব অদ্ভূত।।

নিত্য অগ্নিহোত্রে রত যতেক ব্রাহ্মণ।

কামধেনু রূপ মানে সর্ব দেবগণ।।

ভক্ষ্য, ভোজ্য, পেয় যা ইষ্ট পদে দান

স্বর্গে থেকে দেবগণ অগ্নি দ্বারা পান।।

ইহা ছাড়া দেবগনের অন্য পথ নাই।

অগ্নি ভুখ দেব মুখ বলা হয় তাই।।

গৃহ ছাড়ি দুগ্ধবতী অন্য কোথা গেলে।

গৃহ নিমজ্জিত হয় দুখঃ হলাহলে।।

বিপ্রগণ লভে যদি এই ব্রহ্ম জ্ঞান।

যাগ যজ্ঞ হীন হয় দেব দুখঃ পান।।

বিষয়ের বিষ ঢালি তাই দেবগণ

সদাই ব্যাস্ত রাখে মানবের মন।।

স্ত্রী-পুত্র-সংসারে মন ন্যাস্ত রয়।

জীবগনে শিব জ্ঞান কভু নাহি হয়।।

যদি বা শিব জ্ঞান কভু সমুদ্ভবে।

মধ্য পথে বিঘ্ন ফলে বিচ্ছিন্নতা লভে।।

দয়া করে যদি শিব দেন দরশন।

চিনেও না চিনে তারে অবিশ্বাসী মন।।

এতেক শুনি মুনিগন সূতেরে জিজ্ঞাসে।

পুরুষের মুক্তি সাধন হবে তবে কিসে।।

দেবগণ হন যদি তাহে অন্তরায়।

শিবজ্ঞান হবে তবে কহ কি উপায়।।

কহিলেন সূত - মুনি জানহ নিশ্চয়।

কোটি জন্ম পুন্যফলে শিবে ভক্তি হয় ।।

সকল কামনা হীন হইয়া তখন।

ইষ্ট-পূর্ত্ত সকল কর্ম করে শিবার্পণ।।

শম্ভূ অনুগ্রহে তবে দৃঢ় হয় নর।

বিঘ্ন হেতু ভয়ে ডরে যত সুরেশ্বর।।

বিঘ্ন দূরীকৃত হলে ভক্তি তৃষ্ণা জাগে।

শিব চরিত শুনি মনে বড় ভাল লাগে।।

শুনিতে শুনিতে কথা জ্ঞান উপজয়।

শিব জ্ঞান হলে পরে তবে মুক্তি হয়।।

কি কহিব কি বলিব শিবে ভক্তি অতি।

পঞ্চপাপ কোটিপাপ সকল বিমুচ্যতি।।

শিব ভক্তি সম্পন্ন অতি মূর্খ জন।

পলকেই নাশ করে সংসার বন্ধন।।

যেই জন ভক্তি করে বা করে দ্বেষ।

উভয়েরই ইচ্ছা পূরন করেন মহেশ।।

ভক্তিভরে তারে যদি দাও ফুল ও জল।

ত্রি জগত দেন তিনি হইয়া কুশল।।

ফুল-জল নাহি পাও কর নমস্কার।

অর্দ্ধ প্রদক্ষিণে তিনি হন চমৎকার।।

প্রদক্ষিণে অশক্ত হও কর চিন্তা তাহে।

সর্ব্ব অভীষ্ট সিদ্ধ হবে শিব অনুগ্রহে।।

বেলকাঠের চন্দন আর বন্য পুষ্প-ফলে।

যে জন প্রীত হয় ভক্তি সহ দিলে।।

তার সেবা করা বল কি আর দুষ্কর।

কিছু না পাহিলে তবে হাত জোড় কর।।

বন্য দ্রব্যে তিনি হন যাদৃশী খুশী।

গ্রাম্য দ্রব্যে উত্তম দ্রব্যে না হন তাদৃশী।।

সুখলভ্য শম্ভূ ছাড়ি যে পূজে অন্য নাম।

ভাগীরথী ছাড়ি সে মৃগতৃষ্ণিকাম্‌।।

ইতি জ্ঞান-সঙ্কলিণী তন্ত্র

523995_622503017793741_964853878_n
দেবী বললেন – হে দেব শক্তি কে? এবং শিব কে? তা আগে আমাকে বলুন তারপর জ্ঞানের বিষয়ে বলবেন।
মহাদেব বললেন – হে দেবী চিত্ত যখন অস্থির তখন তাতে শক্তি অবস্থান করেন এবং চিত্ত যখন স্থির হয় তখন তাতে শিব অবস্থান করেন। চিত্ত স্থির হলে জীব দেহ ধারণ করেই সিদ্ধি বা মোক্ষ লাভ করে থাকে।
দেবী জিজ্ঞেস করলেন – শরীরের কোন স্থানে তিন প্রকারের শক্তি , ছয় প্রকারের চক্র, একুশ টি ব্রহ্মাণ্ড ও সাত প্রকারের পাতাল অবস্থিত আছে তা আমাকে বলুন।
মহাদেব বললেন- উর্দ্ধশক্তি কণ্ঠে, অধোশক্তি গুহ্যদেশে এবং মধ্য-শক্তি নাভিতে অবস্থিত। আর যিনি এই তিন শক্তির বাইরে তাকেই নিরঞ্জন ব্রহ্ম বলে। গুহ্য চক্রকে আধার, লিঙ্গ-চক্রকে স্বাধিষ্ঠান, নাভি-চক্রকে মনিপুর, হৃদয়-চক্রকে অনাহত, কণ্ঠ-চক্রকে বিশুদ্ধ এবং মস্তক-চক্রকে সহস্রদল বলে। যিনি এই ছয় চক্রকে ভেদ করতে পারেন তিনি চক্রাতীত ও নমস্য ব্যক্তি। শরীরের উর্দ্ধ দিক হল ব্রহ্মলোক। এবং শরীরের নীচের দিক হল পাতাল লোক। এই শরীর বৃক্ষের মত কিন্তু এর উর্দ্ধদিক হল সেই বৃক্ষের মূল স্বরূপ এবং নিম্নদিক হল সেই বৃক্ষের শাখা স্বরূপ।
দেবী বললেন – হে শিব, হে শঙ্কর, হে ঈশান, হে পরমেশ্বর আমাকে বলুন এই দেহের মধ্যে কি ভাবে দশ প্রকার বায়ু অবস্থিত এবং যে দশটি দরজা আছে সেগুলি কি কি ?
মহাদেব বললেন – হৃদয়ে প্রাণবায়ু, গুহ্যদেশে অপাণবায়ু, নাভিদেশে সমান বায়ু, কণ্ঠে উদানবায়ু, দেহের ত্বকে ও সারা দেহ জুড়ে ব্যান বায়ু অবস্থিত। নাগ বায়ু উর্দ্ধপান হতে আগত এবং কূর্ম্মবায়ু তীর্থ দেশে আশ্রিত।  কৃকর বায়ু মানসিক ক্ষোভে, দেবদত্ত বায়ু হাই তুললে এবং ধনঞ্জয় বায়ু গভীর চিৎকার করলে নিবেশিত হয়ে সাম্য রক্ষা করে। এই দশ প্রকার বায়ু নিরালম্ব (অবলম্বন শূন্য) এবং যোগীগণের যোগ সম্মত।  আমাদের শরীরের নবদ্বার প্রত্যক্ষ করা যায় এগুলি হল দুটি চোখ, দুটি কান, দুটি নাসারন্ধ্র, মুখ, গুহ্য ও লিঙ্গ এবং দশম দ্বার হল মন।
দেবী বললেন – সারা শরীর জুড়ে যে নাড়ী অবস্থিত তা কয় ভাগে বিভক্ত? কুণ্ডলিনী শক্তি ও তা থেকে উৎপন্ন যে দশটি নাড়ী সে সম্বন্ধে আমাকে বলুন।
মহাদেব বললেন – ঈড়া, পিঙ্গলা এবং সুষুম্না এই তিনটি নাড়ী উর্দ্ধগামিনী; গান্ধারী, হস্তি জিহ্বা ও প্রসবা এই তিনটি নাড়ী দেহের সর্ব্বত্র ব্যাপ্ত আছে। শরীরের দক্ষিণ অঙ্গে অলম্বুষা ও যশা এই দুটি ও বাম অঙ্গে কুহু ও শঙ্খিনী এই দুটি নাড়ী ব্যবস্থিত। এই দশ প্রকার নাড়ী হতেই শরীরে নানা নাড়ী উৎপন্ন হয়েছে এবং বাহাত্তর হাজার প্রসূতিকা নাড়ী শরীরের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায়।  যে যোগী এই সমস্ত নাড়ী গুলিকে জানেন তিনি যোগ লক্ষণ যুক্ত হয়ে যান এবং জ্ঞাননাড়ী হতেই যোগীগণ সিদ্ধিলাভ করে থাকেন।
দেবী বললেন – হে ভূতনাথ, হে মহাদেব, হে পরমেশ্বর তিন দেবতার সম্বন্ধে আমাকে বলুন তদের তিন প্রকার গুণ ও ভাব কি কি?
মহাদেব বললেন – রজো ভাবে ব্রহ্মা, সত্ত্ব ভাবে বিষ্ণু ও ক্রোধ ভাবে রুদ্র অবস্থিত আছেন। এই হল তিন দেবতা, এই হল তিন প্রকার গুণ। ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর এই তিন দেবতার মূর্ত্তি একই, যার মনে এই তিন দেবতার পৃথক পৃথক ভাব পরিকল্পিত হয় তার মুক্তি কখনোই হয় না।  দেহের মধ্যে ব্রহ্মা বীর্য্যরূপে, বিষ্ণু বায়ু রূপে ও রুদ্র মন রূপে অবস্থিত আছেন, এই তিন দেবতা ও এই তিন গুণ। দয়া ভাবে ব্রহ্মা, শুদ্ধ ভাবে বিষ্ণু ও অগ্নি ভাবে রুদ্র অবস্থান করে এই তিন দেবতা, এই তিন গুন। এই জগৎ চরাচর সকল কিছুই সেই সেই এক পরমব্রহ্ম থেকেই উৎপন্ন হয়েছে, যার মধ্যে এই জগৎ সম্বন্ধে নানা ভাবের সৃষ্টি হয় তার মুক্তি কখনই হয় না। আমিই সৃষ্টি, আমিই সময়, আমি ব্রহ্মা, আমি হরি, আমি রুদ্র, আমি শূন্য, আমি সর্বব্যাপী ও আমিই নিরঞ্জন ব্রহ্ম। আমি সর্বময়, আমি নিষ্কাম, আমার উপমা আকাশ, শুদ্ধ স্বভাব ও নির্ম্মল ব্রহ্ম স্বরূপ মনও আমি, এর মধ্যে কোন সংশয় নেই। যে বীর জিতেন্দ্রিয়, ব্রহ্মচারী, সুপণ্ডিত, সত্যবাদী, দানশীল, অন্য ব্যাক্তির হিতে রত (পরোপকারী) তাকেই ভক্ত বলে। ব্রহ্মচর্য তপস্যার মূল এবং দয়া ধর্মের মূল তাই যত্ন সহকারে দয়া ও ব্রহ্মচর্যের আশ্রয় গ্রহণ করা উচিত।
দেবী বললেন – হে যোগেশ্বর, হে জগন্নাথ, হে উমাপ্রাণবল্লভ, বেদ, সন্ধ্যা, তপস্যা, ধ্যান, হোম, কর্ম ও কুল কি তা আমাকে বলুন?
মহাদেব বললেন – হাজার অশ্বমেধ যজ্ঞ বা একশ বাজপেয় যজ্ঞের যে পুণ্যফল তা ব্রহ্মজ্ঞানের পুণ্যফলের ষোলকলার এক কলারও সমান নয়। সব সময়ে শুচি হয়ে সকল পুণ্যতীর্থে ভ্রমণ করে যে পুণ্যফল তা ব্রহ্মজ্ঞানের পুণ্যফলের ষোলকলার এক কলারও সমান নয়। না বন্ধু, না পুত্র, না পিতা, না সখা, না স্বামী কাউকেই সেই গুরুর সাথে তুলনা করা যায় না যে সেই পরম পদ দেখিয়ে দিতে পারেন। না বিদ্যা, না তীর্থ, না দেবতা কেউ সেই গুরুর সাথে তুলনীয় নয় যে সেই পরম পদ দেখিয়ে দিতে পারেন। এবং সেই পরম পদ পাওয়ার জন্য গুরু শিষ্যকে যে একাক্ষর মন্ত্র নিবেদন করেন সারা পৃথিবীতে এমন কোন দ্রব্যই নেই যার দ্বারা গুরুর সেই ঋণ শিষ্য শোধ করতে পারে। যাকে তাকে এই সুগোপনীয় ব্রহ্মজ্ঞান দেওয়া যায় না কেবলমাত্র সদগুরু(?) তার যে কোন ভক্ত শিষ্যকেই এই ব্রহ্মজ্ঞান প্রদান করবেন। জ্ঞানী মাত্রেই মন্ত্র, পূজা, তপ, ধ্যান, হোম, জপ, বলিক্রিয়া ও সন্ন্যাস আদি সকল প্রকার লৌকিক কাজ পরিত্যাগ করবেন। সংসর্গেই (সঙ্গগুণ) সকল প্রকার দোষ ও নিঃসঙ্গ(একাকী) থাকলেই সকল প্রকার গুণের উৎপত্তি হয়ে থাকে তাই সব রকমের চেষ্টা দ্বারা সব রকমের সঙ্গ পরিত্যাগ করবে। অকার সত্ত্বগুণ, উকার রজোগুণ এবং মকার তমোগুণ এই তিন গুনের আধারই প্রকৃতি। অক্ষরই প্রকৃতি এবং অক্ষরই স্বয়ং ঈশ্বর (পুরুষ)। প্রকৃতি এই পুরুষ থেকেই এসেছেন এবং সত্ত্ব, রজ:, তম: এই তিন গুনের দ্বারা বদ্ধ হয়েছেন। সেই মায়া স্বরূপ প্রকৃতি পালন, সৃষ্টি, সংহার এই তিন শক্তিবিশিষ্ট এবং সেই মায়াই অবিদ্যা, মোহিনী, শব্দরূপা ও যশস্বিনী হয়েছেন।  অকার ঋকবেদ, উকার যজুর্বেদ ও মকার সাম বেদ এই তিনটি মিলিত হয়েই অথর্ব্ববেদ হয়েছে। ওঁকার প্লুত স্বর এবং একে ত্রিনাদও বলা হয়ে থাকে। অকার ভূলোক, উকার ভুবর্লোক ও  ব্যঞ্জন সহ মকার স্বর্গলোক এবং এই তিন অক্ষরেই আত্মা বিশেষ ভাবে অবস্থিত থাকে। অকার পৃথিবী এবং হলুদ বর্ণের। উকার অন্তরীক্ষ এবং বিদ্যুৎ বর্ণ সংযুক্ত এবং মকার স্বর্গ এবং শুক্ল বর্ণ সংযুক্ত। এবং এই সকল বর্ণ সংযুক্ত একাক্ষর প্রণব ওঁকারই একমাত্র নিশ্চিত ব্রহ্ম। আসন করে এবং চিন্তাশূন্য ভাবে প্রতিদিন বসবে কিন্তু খেয়াল রাখবে ঘুমিয়ে না পড় এই ভাবে প্রতিদিন বসলেই যোগী হওয়া যায় এটাই শিবের কথা এর অন্যথা নেই।  যে ব্যাক্তি প্রতিদিন এই ব্রহ্মজ্ঞানের কথা পাঠ বা শ্রবণ করে সে ব্যাক্তি সকল প্রকার পাপ থেকে মুক্ত হয়ে বিশুদ্ধ আত্মা হয়ে শিবলোক প্রাপ্ত হয়।
দেবী বললেন – স্থূল লক্ষণ কি, কি ভাবে মনের বিলয় ঘটে থাকে স্থূল ও সূক্ষ্মের লক্ষণ স্বরূপ যে পরমার্থ নির্বাণ তা কি?
মহাদেব বললেন- যখন জ্ঞান হয় তখন অন্ধকার স্বরূপ পাপ আর বিদ্যমান থাকে না। তখনই মনের বিলয় ঘটে থাকে।  এবং যখন জ্ঞান জন্মায় তখন পৃথিবী, জল, অগ্নি, বায়ু ও আকাশ এই পঞ্চভূত হতে সৃষ্ট যে দেহ তা স্থুলরূপে অবস্থিত করে আর জ্ঞান লাভ করলে এর যে অন্যথা অবস্থান তাই সূক্ষ্মরূপে অবস্থিত থাকে।
-       ইতি জ্ঞান-সঙ্কলিণী তন্ত্র (শ্লোক -৬৩-১১০)
lord-lakulish-lingum-yoni

Saturday, November 23, 2013

জ্ঞান সঙ্কলিণী তন্ত্র (ভাগ ৪)


দেবী বললেন- জীব কিভাবে শিবে পরিণত হয়? শিবের সেই প্রসন্নতার কার্য্য-কারন আমাকে বলুন। তখন মহাদেব বললেন- জীব ভ্রান্তিতে বদ্ধ থাকলেই জীব থাকে যখনই ভ্রান্তিমুক্ত হয়ে যায় তখন সে সদাশিবে পরিণত হয়।  তুমিই কার্য্য এবং তুমিই কারন এবং তোমার অন্তরের ভাবের জন্য তুমি এই কার্য্য ও কারণ কে বিশেষ ভাবে বোধ হয়। মন অন্যত্র, শিব অন্যত্র, শক্তি অন্যত্র, বায়ু অন্যত্র এই ভেবে এই তীর্থ সেই তীর্থ করে তামসিক জনেরাই ভ্রমন করে থাকে। হে প্রসন্ন চক্ষুধারী দেবী আত্মতীর্থ জ্ঞানহীন ব্যাক্তির মুক্তি কিভাবে সম্ভবপর হবে। বেদকে বেদ বলা যায় না, বেদ বলা যায় নিত্য সনাতন ব্রহ্মকে। যিনি সর্ব্বদা সর্ব্বত্র ব্রহ্মজ্ঞানে রত তিনিই যথার্থ ব্রাহ্মণ ও বেদজ্ঞ। যোগীগন চারি বেদ পাঠ করে ও সর্বশাস্ত্র মন্থন করে এর সার বস্তু পান করেছেন আর পণ্ডিত গন ঘোল পান করেছেন। সকল প্রকার শাস্ত্রই উচ্ছিষ্ট হয়েছে এবং সকল প্রকার বিদ্যাই মুখে মুখে রয়েছে কিন্তু সেই অব্যক্ত চেতনাময় ব্রহ্মজ্ঞান কখনোই উচ্ছিষ্ট হয়  নি। কারন ভাষা দিয়ে একে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।  ব্রহ্মচর্য্য ছাড়া আর কোন উত্তম তপস্যা নেই। যে ব্যাক্তি উর্দ্ধরেতা সে দেবতা মানুষ নয়। শুন্যের (নিরাকারের) ধ্যান ছাড়া আর কোন প্রকার ধ্যানই উত্তম নয়। এবং ধ্যান শুন্য কে অবলম্বন করলে তার প্রসাদে সুখ ও মোক্ষ এই দুইই লাভ হয়ে থাকে সে বিষয়ে কোন সংশয় নেই। সেই হোমের থেকে কোন বড় হোম নেই যেই হোমে ব্রহ্মাগ্নিতে প্রানরূপ ঘৃতের দ্বারা আহুতি প্রদান করা হয়। যজ্ঞহেতু যে হোম করা হয় তা হোমই নয়। পাপকর্ম্ম যা হওয়ার তা হবে এবং পুণ্যও প্রর্বত্ত হতে থাকবে এর জন্যই যারা বুদ্ধিমান তারা এই দুটিকেই সর্ব প্রযত্ন সহকারে পরিহার করে থাকেন।  যতক্ষন মানুষের মধ্যে বর্ণ কুল ইত্যাদি জ্ঞান থাকে ততক্ষণ মানুষের জ্ঞান জন্মায় না। মানুষের ব্রহ্মজ্ঞান যখনই হয়ে তখনই সব বর্ণ ও কুল বিবর্জন হয়ে যায়।
দেবী বললেন- আপনি জ্ঞানের যে বিশ্লেষণ করলেন তা আমার বোধগম্য হল না। হে শঙ্কর , হে দেবতাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ যে জ্ঞানে মন একেবারে তন্ময় হয়ে যায় তা দয়া করে আমাকে বলুন।

মহাদেব বললেন- মন, বাক্য এবং কর্ম এই তিনটিই যখন লয় প্রাপ্ত হয় ও স্বপ্নবিহীন নিদ্রা যেমন সেই রকম কোন অবলম্বন ব্যতিরেকে যে জ্ঞান জন্মায় তাকেই ব্রহ্মজ্ঞান বলে। যে জ্ঞান দ্বারা মানুষ একাকী, স্পৃহাহীন, শান্ত, চিন্তাবিহীন, নিদ্রাবিরহিত ও বালকের মত ভাবসম্পন্ন হয় তাকেই ব্রহ্মজ্ঞান বলা হয়ে থাকে। এই অর্দ্ধশ্লোকের দ্বারা আমি তোমাকে বলছি যা তত্ত্বদর্শী মহাশয়েরা যোগ বিষয়ে বলেছেন তা হল সকল প্রকার বাইরের চিন্তা পরিত্যাগ করে চিন্তাশুন্য হলেই যোগ হয়। যে ব্যক্তি নিমেষ বা অর্দ্ধনিমেষ মাত্র সমাধি প্রাপ্ত হতে পারেন তার তৎক্ষনাৎ শত জন্মের পাপ নাশ হয়ে থাকে। (শ্লোক ৪৬-৬২)

Monday, November 18, 2013

জ্ঞান সঙ্কলিণী তন্ত্র -ভাগ ৩

দেবী বললেন- হে আদিনাথ সাত প্রকার ধাতু কি কি? আত্মা, অন্তরাত্মা এবং পরমাত্মাই বা কি তা আমাকে বলুন?

মহাদেব বললেন- শুক্র (বীর্য্য), শোণিত (রক্ত), মজ্জা, মেদ (চর্বি), মাংস এই পাঁচটি এবং অস্থি (হাড়) ও ত্বক এই সাত প্রকার ধাতু প্রত্যেক শরীরে অবস্থিত আছে। এই শরীরই আত্মা, মন হল অন্তরাত্মা এবং পরমাত্মা হল শূন্য যেখানে মন বিলীন হয়ে যায়। রক্তধাতু হল মাতা, শুক্রধাতু হল পিতা প্রাণ হল শুন্যধাতু এই শুক্র ও শোণিতের মিলনেই প্রাণ সমন্বিত গর্ভপিন্ড উৎপন্ন হয়ে থাকে। দেবী বললেন – কিভাবে বাক্যের উৎপত্তি হয় এবং কিভাবে বাক্যের লয়প্রাপ্তি ঘটে থাকে? বাক্য কিভাবে আমরা নির্ধারিত করতে পারি এবং আমাকে সেই বাক্যজ্ঞান উদাহরন সহকারে ব্যাখা করে বুঝিয়ে দিন। মহাদেব বললেন- অব্যক্ত হতে প্রান সৃষ্টি হয়, প্রাণ হতে মনের এবং মানস হতে বাক্যের সৃষ্টি হয় এবং মনেই বাক্য বিলীন হয়ে যায়। দেবী বললেন- দেহের কোন স্থানে সূর্যের অবস্থান, কোন স্থানে চন্দ্রের অবস্থান, কোন স্থানে বায়ুর অবস্থান এবং কোন স্থানেই বা মনের অবস্থান তা আমাকে বলুন? মহাদেব বললেন – তালুমুলে চন্দ্রের অবস্থান, নাভিমুলে সূর্য্যের অবস্থান। এবং সূর্যের অগ্রভাগে বায়ু ও চন্দ্রের অগ্রভাগে মনের অবস্থান। হে মহাদেবি সূর্য্যের অগ্রভাগে চিত্তের এবং চন্দ্রের অগ্রভাগে প্রাণের এই অবস্থান সম্বন্ধীয় যুক্তি গুরুর উপদেশ ক্রমে লাভ হয়ে থাকে। দেবী বললেন- দেহের কোন স্থানে শক্তির  অবস্থান, কোন স্থানে শিবের অবস্থান, কোন স্থানে কাল অবস্থান করেন? দেহের মধ্যে জরার কিভাবে ও কেন উৎপত্তি হয়ে থাকে তা আমাকে বলুন। মহাদেব বললেন- পাতালে শক্তি, ব্রহ্মাণ্ডে শিব ও অন্তরীক্ষে কালের অবস্থান এবং এই কাল হতেই জরার উৎপত্তি হয়ে থাকে। দেবী বললেন- আহার কে আকাঙ্খা করে, কে পান ভোজনে তৃপ্ত হয়? কার বুদ্ধিই বা জাগ্রত, স্বপ্ন বা নিদ্রিত অবস্থায় ক্রিয়াশীল থাকে? মহাদেব বললেন- প্রান আহারের আকাঙ্খা করে। অগ্নি পান-ভোজনের দ্বারা তৃপ্ত হয় আর বায়ু জাগ্রত, স্বপ্ন ও সুষুপ্ত অবস্থায় প্রতিবুদ্ধ থাকে। দেবী তখন জিজ্ঞেস করলেন – হে মহাদেব কর্ম কে করে? কেইবা পাপে লিপ্ত হয়? কে পাপকার্য্য সম্পাদন করে এবং কেইবা সে পাপ হতে মুক্তি লাভ করে থাকে? মহাদেব বললেন- মনই পাপ করে, মনই পাপে লিপ্ত হয়ে থাকে এবং সেই মনই যখন উণ্মনা(মুক্ত) হয় তখন আর তার পাপ পুণ্য থাকে না। (শ্লোক-৩১-৪৫)

Thursday, November 14, 2013

জ্ঞান সঙ্কলিণী তন্ত্র (ভাগ ২)


মহাদেব তখন বললেন- ত্রিদন্ডী (তিলকধারী) মাত্রেই ভক্ত ও সর্বদা বেদ চর্চা করে থাকে। যারা শাক্ত তারা প্রকৃতিবাদী অর্থাৎ প্রকৃতিই শ্রেষ্ঠ এই মতবাদ প্রমাণ করেন। আর যারা শুন্যবাদী অর্থাৎ বেদ-বেদান্ত ইত্যাদি প্রমানে বিশ্বাস করেন না তারা বৌদ্ধ। এই সব মতবাদের উপরে যারা তারাই প্রকৃত তত্ত্বজ্ঞ, কিন্তু যারা চার্বাক তারা এই সকল কিছু মানেন না এবং তারা যে সকল আলোচনা করে থাকেন সেই সমস্তকিছুই বিষয় নির্ভর।
দেবী বললেন- হে দেব উমা আপনার কাছে জানতে চায় এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের লক্ষণ কি? পঞ্চভূতই বা কি কি এবং পঁচিশ প্রকার গুণই বা কাকে বলে দয়া করে বলুন।

ঈশ্বর বললেন- ব্রহ্মজ্ঞানে অস্থি, মাংস, নখ, ত্বক ও লোম এই পাঁচটি পৃথিবীর গুন বলে বর্নিত হয়েছে। শুক্র, শোণিত, মজ্জা, মল, মুত্র এই পাঁচটি জলের গুণ বলে বর্নিত হয়েছে। নিদ্রা, ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ক্লান্তি ও আলস্য এই পাঁচটি অগ্নির গুণ বলে বর্নিত হয়েছে। ধারণ, চালন, ক্ষেপণ, প্রসারণ ও সঙ্কোচণ এই পাঁচটি বায়ুর গুণ বলে বর্নিত হয়েছে। কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ ও লজ্জা এই পাঁচটি আকাশের গুণ বলে বর্ণিত হয়েছে। আকাশ হতে বায়ু, বায়ু হতে সূর্য(তেজ), সূর্য হতে জল এবং জল হতে পৃথিবীর উৎপত্তি হয়ে থাকে। এই পৃথিবী জলে বিলীন হয়, জল সূর্যে বিলীন হয়, সূর্য বায়ুতে এবং বায়ু আকাশে লীন হয়ে থাকে। এই পাঁচ প্রকার তত্ত্ব হতেই সৃষ্টি হয় এবং এই পঞ্চতত্ত্বেই সকল তত্ত্ব লয়প্রাপ্ত হয়ে থাকে। এই পঞ্চবিধ তত্ত্বের পরে যে তত্ত্ব তাকেই বলে তত্ত্বাতীত বা নিরঞ্জন। স্পর্শন, রসন, ঘ্রাণ, দর্শন এবং শ্রবণ এই পাঁচটি কর্মই ইন্দ্রিয়ের পঞ্চতত্ত্ব আর এই সকল ইন্দ্রিয়ের কর্ম পরিচালিত করে মন(প্রধান)। এই ব্রহ্মাণ্ডের সকল প্রকার লক্ষণ আমাদের এই দেহের মধ্যেই পরিলক্ষিত হয়। এর মধ্যে যেগুলি সাকার সেই গুলির বিণাশ হয় এবং যেগুলি নিরাকার (আকার শুন্য) সেগুলি অবিনাশী।(সাকারাশ্চ বিনশ্যন্তি নিরাকারো ন নশ্যতে)। যার মন নিরাকার সে নিরাকারসম হয়ে যায় আর নিরাকারের বিনাশ নাই তাই সর্ব প্রকার প্রচেষ্টা করে সাকার চিন্তা পরিত্যাগ কর। (শ্লোক ১৭-৩১) 
  

Tuesday, October 29, 2013

What is Shakti Tantra?

Tantrik Union


Shakti Tantra is a symbolic union of male and female energies within as a meditative form, and expanding

to all levels of consciousness, thereby unveiling the supreme reality of creation, is the basis of Tantra.


It unifies the masculine and feminine aspects within us, to help us transcend into the oneness of the Divine.

The principle of the Feminine is explained in Shakti Tantra as; "Ya Devi Sarva Bhuteshu, Shakti Rupena Samstita, Namastaseh, namastaseh, namastaseh, namo namaha" (Prostrations unto Thee, O Divine Mother Goddess, who dwells in all matter in the form of Shakti).

Devi Rahasyam states that Shakti is MahaKali, the great Goddess, creating the three principles or gunas: sattvas, rajas and tamas. They create the fabric of the universe.

Tantra Rahasya explains Tantra as "Tanyate vistaryate jnanam anemna iti tantram" (Tantra is the divine scripture by which the light of spiritual knowledge is spread).

Lord Shiva is considered the founder of Tantra. At its heart is the philosophy of the Upanishads.

The Agama shastras are the backbone of all rituals. Agama comprises: Jnana (knowledge); Yoga (meditation); Kriya (consecration of idols, rituals); Karya (ways of worship).

MahaKali is considered the foremost aspect of the Divine Goddess: pure energy, pure spirit. She is worshipped in any of Her 10 aspects: Kali, Tara, Shodasi, Bhuvaneshvari, Bhairavi, Chinnamasta, Dhumavati, Bagala, Matangi and Kamala.

Tantric scriptures — Kaulavalinirnaya Tantra, Niruttara Tantra and the Rudrayamala
Tantra — tell us that the universe we are a part of is Brahman: the infinite Supreme Consciousness, manifest through the cosmic union of male and female energies of Shiva, Eternal Consciousness, and Shakti, feminine energy.

Thus Tantra unites all of reality, when everything attained on the physical level also crosses into the spiritual level, as integral to each other.

Life of a Tantric Sadhak
A sadhak, or person performing tantric acts, lives a simple life, practices yoga and meditates in the quiet of the countryside, far away from the madding crowd. He is distinguished by his saffron robe and begging bowl, or in some cases he might go stark naked! He sells charms, amulets, 'magical' medicines and herbs. He sometimes gathers together with other sadhus to form vast processions during religious festivals. So much for the brighter side of a tantric. The darker half involves taking drugs, inflicting austerities upon himself, or doing certain things that outrage morality.

Tantrik Prayog (Black Magic): Major Causes
Whenever you face such situations, feel assured that someone has used Black Magic on you, as a result of which all your efforts become ineffective.
Though such prayog is not easy, but some Tantriks expertise in it and torture innocent souls at the behest of selfish and greedy people. Such Tantriks have made Black Magic their profession, and use it on others indiscriminately at the behest of their adversaries, to mint money. Thus the happy life of the people is spoiled.
Such so-called Black-Magicians, no doubt can harm others, but they do not possess the powers to counter such Tantrik moves. As a result the victim keeps on suffering and sometimes it leads to the death of the victim. It is in fact very easy to cause harm through Tantra, but very difficult to amend the damage done. In order to learn the art of saving, one has to undergo Sadhna and Siddhi, and only a Tantrik of high caliber can do so.

Wednesday, October 23, 2013

জ্ঞান সঙ্কলিণী তন্ত্র- (ভাগ ১)

কৈলাস শিখরে পদ্মাসনে বসে আছেন দেবতাদের দেবতা, জগতের গুরু মহাদেব। মহাদেব তাকে জিজ্ঞেস করলেন, - হে মহান ঈশ্বর, জ্ঞান কাকে বলে? আমাকে বলুন। কি ভাবে এই সৃষ্টির উদ্ভব হল? কি ভাবেই বা এর বিনাশ হয়ে থাকে? সেই ব্রহ্মজ্ঞানই বা কি যা এই সৃষ্টি সংহার বর্জিত?
ঈশ্বর বললেন- একমাত্র অব্যক্ত (যা বাক দ্বারা প্রকাশ করা যায় না) হতেই সৃষ্টি হয় এবং সেই অব্যক্তের মধ্যেই সব লীন হয়। সৃষ্টি-সংহার হীন যে ব্রহ্ম জ্ঞানের কথা বলছ তা ওই অব্যক্তই। ওঁ কার থেকেই চৌদ্দটি বিদ্যা, মন্ত্র, পূজা, তপ:, ধ্যান, কর্ম, অকর্ম ইত্যাদি সমস্ত কিছু নির্গত হয়েছে। চারটি বেদ, ছয়টি বেদাঙ্গ, মীমাংসা, ন্যায়, ধর্মশাস্ত্র, পুরাণ এই চৌদ্দটিকেই চতুর্দশ বিদ্যা বলা হয়ে থাকে। এই চৌদ্দটি বিদ্যাকে সম্পূর্ণভাবে করায়ত্ত করতে পারলেই জ্ঞান লাভ হয়। এবং এই জ্ঞান লাভ হলেই ব্রহ্ম জ্ঞানে অধিকার জন্মায়। আর ব্রহ্ম জ্ঞান যার হয় তার সকল বিষয়ে সম্পূর্ণ জ্ঞান হয়।
বেদ-পুরাণ ইত্যাদি শাস্ত্রগুলিকে নগর বধূর (পতিতা) মত সকলের কাছেই প্রকাশ করা যায় কিন্তু শাম্ভবী বিদ্যা অভ্যন্তরীণ বিদ্যা এবং কুল বধূর তুল্য সদা অপ্রকাশ্য (দেখানো চলে না বা দেখানো যায় না)। দেহের মধ্যেই সমস্ত বিদ্যা থাকে, দেহের মধ্যেই সকল দেবতারা স্থিত থাকেন, দেহের মধ্যেই সকল তীর্থের অবস্থান এবং গুরু আশীর্বাদে তা প্রত্যক্ষ করা সম্ভব, অনুভব করা সম্ভব। আধ্যাত্মবিদ্যা মানুষকে সুখ ও মোক্ষ প্রদানকারী বিদ্যা এবং এই বিদ্যা লাভ করলে ধর্ম, কর্ম, জপ ইত্যাদির নিবৃত্তি হয়ে থাকে। কাঠের মধ্যে যেভাবে আগুন থাকে, ফুলের মধ্যে যেভাবে গন্ধ থাকে এবং জলের মধ্যে যেভাবে অমৃত সকল সময়ই বিদ্যমান থাকে দেহের মধ্যে সেইভাবেই দেবতা পাপ-পুণ্য বিবর্জিত হয়ে সদা উপস্থিত থাকেন। (১-১০)

দেহের মধ্যে তিনটি নাড়ী থাকে। (তিন প্রকার) তার মধ্যে ঈড়া হল ভগবতী (যে ভগ বহন করে) গঙ্গা, পিঙ্গলা হল যমুনা নদী এবং সুষুণ্মা হল সরস্বতী নদী। (এখানে ঈড়া হল ধমনী যার মধ্যে শুদ্ধ শোণিত প্রবাহিত হয়, পিঙ্গলা হল শিরা যার মধ্যে দূষিত রক্ত বাহিত হয় পুনরায় শুদ্ধি করণের জন্য এবং সুষুণ্মা হল স্নায়ু তন্ত্র যার মাধ্যমে আমাদের উত্তেজনা (impulse)প্রবাহিত হয় যা অনুভূতির উদ্ভব ঘটায়, জ্ঞান হিসাবে সঞ্চিত থাকে বা বাক হিসাবে প্রকাশিত হয়ে যুগ যুগান্ত প্রবাহিত হয় তাই একে বলা হয়েছে সরস্বতী।)
যেখানে এই তিনটি নদী মিলিত হয় তাকে বলা হয় ত্রিবেণী সংগম, যা সমস্ত তীর্থের শ্রেষ্ঠ, তেমনি এই তিন প্রকার নাড়ী যেখানে মিলিত হয় তাকেও ত্রিবেণী বলা হয়ে থাকে। ত্রিবেণী সংগমে স্নান বা অবগাহন করতে পারলে যেমন সকল প্রকার পাপ দূর হয়ে থাকে তেমনি শরীর অভ্যন্তরস্থ ত্রিবেণী সংগমে অবগাহন করতে পারলে মনের অন্ধকার দূর হয়ে মানুষ শুদ্ধ চৈতন্যের অধিকারী হয়। (এই জন্যই কি বলে- ‘ডুব দেরে মা কালী বলে’। শরীর অভ্যন্তরস্থ ত্রিবেণী সংগম হল মানস লোক বা মন, স্নান অর্থে অবগাহন অর্থাৎ মনকে বিশেষ ভাবে জানতে পারলেই অজ্ঞানতা বা পাপ বিদূরিত হয়।)
দেবী জিজ্ঞেস করলেন- খেচরী মুদ্রা কি প্রকার? শাম্ভবী বিদ্যা কি? আধ্যাত্মবিদ্যাই বা কি হে মহেশ্বর তা আমাকে বলুন।
মহাদেব বললেন- বিনা অবলম্বনে যখন মন স্থির থাকে (মন সর্বদাই মনন করে থাকে, অর্থাৎ কিছু না কিছু চিন্তা তরঙ্গ উৎপন্ন করেই চলে এবং তার জন্য মনের প্রয়োজন হয় বিষয়ের অবলম্বন কিন্তু মন যখন বিষয় চিন্তা পরিত্যাগ করে তখন তার তরঙ্গ বা আন্দোলন বন্ধ হয় এবং তখনই মন স্থির হয়েছে বলে ধরা সঠিক), বিনা প্রতিরোধে যখন বায়ু স্থির থাকে (বায়ু বলতে এখানে শরীর অভ্যন্তরস্থ বায়ু সমূহের কথা বলা হয়েছে। প্রাণায়ামের সঠিক অভ্যাসে যখন আর মুদ্রা সহযোগে আঙুলের সাহায্যে নাসিকা নিরুদ্ধ করে বায়ুর গতিকে সমাহিত করার প্রয়োজন হয় না তখন বায়ু সকলকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় আর মন স্থির হলেই এটা সম্ভব বা এটা হলেই মন স্থির হয়ে থাকে)এবং দৃষ্টি যখন বিনা অবলোকনেই স্থির করা যায় তখন সেই টিকে খেচরী মুদ্রা বলা হয়ে থাকে।
বালক ও মূর্খের চেতনা যেমন স্বপ্ন হীন হয়েও নিদ্রিত হতে পারে সেই রকম যে বিদ্যা দ্বারা কোন অবলম্বন ছাড়াই আধ্যাত্মপথে অগ্রসর হওয়া যায় তাকেই শাম্ভবী বিদ্যা বলে।
দেবী তখন বললেন- হে দেবতাদের দেবতা, জগতের প্রভু জগন্নাথ পরমেশ্বর, কি জন্য এই দর্শন শাস্ত্র গুলি এ রকম ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করে তা আমাকে বলুন? (খুবই স্বাভাবিক প্রশ্ন। এক ঈশ্বরের ভজনা করার জন্য এত ভিন্ন ভিন্ন মত ও পথ কেন?) (শ্লোক ১-১৬)

Monday, September 02, 2013

DIVINE ECSTASY

The implications of what is called Tantra go far beyond mere "sex". They surpass the classic Kama Sutra, and even the sexual continence. It is true that Tantra it uses sex (in fact, to be more accurate, it uses the sexual energy), but this is just a means to an end. The actual aim of Tantra is the ULTIMATE SPIRITUAL FREEDOM.

This concept may appear somewhat confusing for the time being ... however, for a better understanding, you should know that the Christians call it salvation of the soul. The Zen tradition - Satori,yoga - SAMADHI and Buddhism - Nirvana but it cannot be but one and the same thing. It is written in the Holy Book that we all have a spark of God inside us. Tantra believes that your spirit is of the same essence with God, pure happiness, infinite knowledge and immortality. It sustains that SPIRIT is above pain, illness and suffering, immune to all the limits of the human personality.

Tantric Paintings

Tantra is an esoteric pagan tradition in Hinduism, which includes extensive use of the mantra or symbolic speech and mandala, symbolic diagrams, to attain enlightenment. The mother goddess is of vital importance in the tradition of Tantra. Hindu Tantric rituals include things like meditation on cremation grounds and corpses, ritualistic use of wine, meat and sexual intercourse. These worldly means will help in unifying the soul with the supreme power. Tantra art exists in Hindu, Buddhist and Jain forms. Tantra in its various art forms exists in South Asia, China, Japan, Tibet, Korea, Cambodia, Burma, Indonesia and Mongolia. According to tantric principles, there is a total parallelism between the microcosm of physical reality and the macrocosm of the universe, the revelation of these dynamic forces in the human body is said to lead to the comprehension of universal reality.

Sunday, September 01, 2013

Shubhamastu



Om Namah Shivay

The best protector from evil is Lord Shiva. Only he can save and shield you. Aghora is one of Lord Shiva's furious forms.  What is the best & easiest and most strongest way to protect yourself & your loved one’s from evil eye witchcraft and Black Magic and politics.
 

Nataraja


Nataraj
Nataraja

Tantrik

Tantrik
Tantrik

Yabyum

Yabyum
Yabyum