Social Icons

twitterfacebookgoogle pluslinkedinrss feedemail
Showing posts with label My View. Show all posts
Showing posts with label My View. Show all posts

Wednesday, May 06, 2015

অন্ধ বিশ্বাস

টিভি খুললেই এখন আমরা দেখতে পাই বিভিন্ন রকমের ধর্মীয় বিজ্ঞাপন। খবরের কাগজে রাশি রাশি তান্ত্রিক দাবী করেন তারা যে কোন ইচ্ছা পাঁচ কিংবা দশ মিনিটে পূরণ করে দেবেন এবং তা গ্যরান্টী সহযোগে। যা স্বয়ং ভগবানও দাবী করেন না। সুলেমানী তন্ত্র থেকে হনুমান যন্ত্র সব কিছু এখন সহজলভ্য এবং অর্থের বিনিময়ে এই সকল ধর্ম ব্যবসায়ীরা আপনার বিধাতার লেখন বদলে দিয়ে আপনার বিধিলিপি নতুন করে লেখে দেবে এই ধারনা আপনি যদি করে থাকেন তাহলে জেনে রাখুন আপনার কষ্টার্জিত ধন আপনি কতকগুলি প্রতারক দের হাতে তুলে দিচ্ছেন মাত্র। মানুষের কিছু আবেগ কে সুড়সুড়ি দিয়ে এরা ফুলে ফেঁপে ঢোল হচ্ছে। ধর্মের উপর মানুষের যে মহান বিশ্বাস সেই বিশ্বাস কে নিয়েই এইসব প্রতারক রা ব্যবসা করে।

শনি রক্ষা কবচ – নীল কালো কাঁচের ছোট বড় কিছু পুঁতি যার দাম বাজারে হয়তো বড় জোর দশ টাকা, আপনাকে শনির প্রকোপের ভয় দেখিয়ে বিক্রি করা হল এক হাজার নয়শো নিরানব্বই টাকায়। মানুষের জীবনে সুখ কিংবা দুঃখের প্রবাহ সব সময় সমান ভাবে বয়ে যায় এমন নয়। ভালো সময় যেমন আসে, খারাপ সময় ঠিক তেমনই আসে তার জন্য শনি কবচ দরকার নেই, যেটা দরকার সেটা হল বিচার-বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ। নিজের দোষ-ত্রুটি গুলিকে স্বীকার করে নিয়ে তার সংশোধন। তাহলে খারাপ সময়টাকে আপনি নিজেই ভালো করে গড়ে তুলতে পারেন। আর ভগবান-ঈশ্বর-আল্লা ইত্যাদিতে যদি বিশ্বাস থাকে তা আপনার অতিরিক্ত পাওনা। যা আপনাকে সৎ, চৈতন্যময় এবং আনন্দিত থাকতে সাহায্য করবে। রক্ত-মুখী নীলা, শনি রক্ষা কবচ পরে আপনার কিছুই হবে না যদি আপনি নিজে থেকে সচেষ্ট না হন। ঐ জিনিস গুলি ধারণ করে আপনার অবস্থার উন্নতি না হলে আপনি আরও বেশী করে ভেঙে পড়বেন। আর সব থেকে খারাপ ব্যাপার যেটা হবে সেটা হল আপনি ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস হারাবেন, দৈব কে খুব খেলো করে দেখবেন, কতকগুলি ধর্ম ব্যবসায়ীর ভণ্ডামির জন্য আপনি হারাবেন সত্যিকারের ভগবান কে আপনার অন্তর থেকে।

হনুমান চালিশা যদি একটি বলির পাঁঠার গলায় ঝুলিয়ে রাখা হয় তাও আবার কাঁচের মধ্যে লিখে যা হনুমানের মাথা ফুটো করে লেখা আছে তাহলে পাঁঠাটির কি কোন রকম উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে আপনার মনে হয়। আসলে হনুমান চালিশা হল পরম বৈষ্ণব শ্রী হনুমানের গুন গান স্তব। যা পাঠ করে আপনি সেই পরম বৈষ্ণবের নাম-মাহাত্ম্য-লীলা আদি অনুধাবন করতে পারবেন, এবং আপনার আচরণে পরিবর্তন এনে হনুমান চালিশা আপনাকে বীর-সাহসী-সৎ এবং ভক্তিমান হতে সাহায্য করবে, আপনার হৃদয়ে এক অফুরন্ত আনন্দ স্রোতের সৃজন করবে কিন্তু কখন? যখন আপনি তা পাঠ করে হৃদয়ঙ্গম করবেন, নাহলে গলায় ঝুলিয়ে রাখলে তা কতকগুলি বর্ণমালা হয়ে কাঁচের ভেতরে জ্বলজ্বল করবে শুধু। একটা হনুমান চালিশার পুস্তকের দাম বাজারে হয়তো দশ টাকার বেশী নয় আর আপনি সেটাই কায়দা করে কিনছেন তিন হাজার টাকায় এখন হিসাব করে বলুন তো হনুমান চালিশা আপনি পরে যা লাভ করছেন তার থেকে বেশী লাভ তারা হনুমান চালিশা বেচে করছেন।

শ্রী লক্ষ্মী পাদুকা যন্ত্র। মা লক্ষ্মী নাকি তার ঐ টুকু খড়ম খানি আপনার বাড়িতে রাখা আছে জানলেই এসে রয়ে যাবে আপনার বাড়িতে। প্রথমত মা লক্ষ্মী বলতে আপনি যা বোঝেন তা তো আছে ক্যলেণ্ডার আর বাঁধাই ফটো বা মন্দিরে ইট কাঠের মূর্তটিতে সেখানে আপনি কোথায় দেখেছেন যে মা লক্ষ্মী খড়ম পরে বসে আছেন? আর তিনি ধনের দেবী হয়ে আপনার থার্ড ক্লাস তামার উপর সস্তা সিটি গোল্ডের হাপ ইঞ্চি খড়মের লোভে আপনার উপর প্রসন্ন হতে যাবেন! পারেন আপনারা কুবেরের চাবিকাঠি গলায় ঝুলিয়ে রাখেন কুবেরের সিন্দুক কোথায় জানেন না! আপনার প্রচেষ্টা না থাকলে কোন কিছুই আপনি পাবেন না। আপনাকে ইচ্ছা, জ্ঞান, কর্ম সহায় করেই আপনার প্রতিটি কর্ম সফল হবে। পৃথিবীর বস্তু যা ছিল তা থাকবে আপনি এসেছেন, খেলা করবেন, খালি হাতে চলে যাবেন। কিন্তু শিকার হবেন কেন? আপনার যুক্তি বুদ্ধি সাধারণ জ্ঞান এই সব গুলিকে জলাঞ্জলি দিয়ে কেন আপনি ধর্ম ভ্রষ্ট হবেন। অন্ধ বিশ্বাসের বলি হয়ে আপনার কষ্টার্জিত পুরুষার্থ কে প্রতারকদের হাতে তুলে দেবেন কেন?

আপনি বলতে পারেন তাহলে ঐ সব প্রতিষ্ঠিত অভিনেতারা যে বলেন তারা ঐ সব জিনিস পরেই আজ এত বড় হয়েছেন তারা কি সবাই মিথ্যা বলে! না তারা মিথ্যা বলেন না তারা অভিনয় করেন। বিনিময়ে মোটা টাকা পান। আর বাকী যারা বলেন তারা সকলেই ওই লোক ঠকানো ব্যবসার সাথে জড়িত। আপনার মনে ওই সব জিনিসের প্রতি বিশ্বাস এনে দিতে পারলে আখেরে লাভ তাদের।

জানি আপনি বুদ্ধিমান। অন্তত নিজের বৌ-ছেলের কাছে তাই সেজে থাকেন। তাহলে এই সব পরা ছাড়ুন নিজের ইচ্ছা-জ্ঞান-কর্ম কে সুনিয়ন্ত্রিত করুন দেখবেন স্বয়ং ভগবান আপনার জন্য সৌভাগ্য বয়ে নিয়ে এসেছে।

সকলের ভালো হোক, সকলেই সুখে থাকুক, ঈশ্বরের প্রতি গভীর বিশ্বাস থাকুক, নশ্বর কোন বস্তুতে নয়।

-ঐরাবত

Saturday, February 07, 2015

তুমি কে?

তুমি কে? এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের অনেকের জানা নেই। তাই আমরা সহজেই উত্তর দিই আমি অমুক শর্মা বা তমুক সেখ। এইগুলি এক একটা নাম। এই নাম গুলির একটা অর্থ হয়। কিন্তু সেই নামের অর্থের সাথে আমার চরিত্রগত মিল থাকতেও পারে অথবা নাও থাকতে পারে। যাকে বলা যায় কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন। তাহলে নাম আমার যথার্থ স্বরূপ নয়। তাহলে আমার যথার্থ স্বরূপ কি? দেহ তো একটা চেয়ারের মত। যার মধ্যে বসে আমার চেতনা আমার জীবন পরিচালিত করে। আমার চেতনাই কি তাহলে আমি? অনেকটা সেই রকম হলেও চেতনাই আমি নয়। কারণ যখন আমি ঘুমিয়ে থাকি তখন আমার সাথে আমার চেতনাও ঘুমিয়ে থাকে। তাই বলে কি আমি তখন নেই! আছি নাহলে প্রত্যূষে শয্যা ত্যাগ করেই আবার জীবন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ি কিভাবে? আমার হৃদয়ের স্পন্দন, আমার রক্তের চলাচল, আমার হরমোন গ্রন্থি গুলির ক্ষরণ, আমার দেহকোষ গুলির বৃদ্ধি ইত্যাদি আমার চেতনার অগোচরেই হয়ে থাকে। তাহলে বোঝা যায় চেতনাকেও পরিচালিত করে এমন একজন যে আমার দেহের মধ্যেই অবস্থিত হয়ে আমার সর্বস্ব কিছুকে পরিচালিত করে – কিন্তু সে থাকে সাধারণ ভাবে আমার ধরা ছোঁয়ার বাইরে। সেই হল আসল আমি। তাকেই ধর্ম শাস্ত্রে বলা হয়েছে আত্মা। আত্মা অবিনাশী, মহা শক্তিধর, নিষ্কলুষ এবং বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের সাথে একই যোগসূত্রে গ্রথিত। আত্মা কোনও খণ্ড চেতনা নয়। আত্মা বিশ্ব চেতনা। এই সমগ্র বিশ্বে তুমি-আমি-সে ইত্যাদির মত আত্মা কোন খণ্ডিত অংশ নয়। সে সদা পূর্ণ এবং পূর্ণ হতে পূর্ণ বিয়োগেও সে সদা পূর্ণ থাকে। বিয়োগ বলতে এখানে আমি বাদ বোঝাতে চাইছি না। বিয়োগ বলতে বিযুক্ত বা যা যুক্ত নয় তাই বোঝাতে চাইছি। উদাহরণ স্বরূপ ধরা যেতে পারে সমুদ্রের ধারে গিয়ে তুমি সমুদ্র থেকে এক ঘটী জল নিলে দেখতে পাবে ঘটির জলে আর ঢেউ উঠছে না। কিন্তু তোমার সামনের আদিগন্ত বিস্তৃত সমুদ্র রাশির সাথে তোমার ঘটির জলের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। আবার তোমার ঘটির জল সমুদ্রে নিক্ষেপ করে দিলে দেখবে সেই জলে আর কোণ প্রভেদ নেই এবং পুনরায় সেই সমুদায় জল তরঙ্গায়িত। এখানে আমি যে ভূমিকাটি গ্রহণ করেছি তা হল বিযুক্ত। এই রকমই আমি সেই মহা চেতনা থেকে নিজেকে বিযুক্ত করে রাখি। তার ফলে আমার প্রকৃত স্বরূপ আমার কাছে অজানা। তাই আমি জানি না আমি কে? তাই চুপ করে যাই যখন কেউ জিজ্ঞেস করে তুমি কে?

Friday, November 28, 2014

কিছু কথা

আমাদের মনে তন্ত্র সম্বন্ধে অনেক সংস্কার জমা হয়ে আছে যা আমাদের দৃষ্টি ভঙ্গী কে স্বচ্ছ হতে দেয় না। আর আমরা তন্ত্র সম্বন্ধে কিছু মন গড়া কাল্পনিক চিন্তা ভাবনা কে এমন ভাবে বিশ্বাস করতে শুরু করি যে তা আমাদের কাছে সত্য বলে প্রতিভাত হতে থাকে। এক জন তান্ত্রিকের সর্ব প্রথম কর্তব্য হল নিজের দৃষ্টি ভঙ্গী কে স্বচ্ছ করা, মনকে সব রকম সংস্কার থেকে মুক্ত করা।

কারণ তন্ত্র কোন আর্য সভ্যতার দান নয়। গুহা মানব যখন আগুনের ব্যবহার শুরু করে সভ্যতার প্রথম সোপানে তার পা রেখেছিল তন্ত্র বিদ্যা তখন থেকেই তার সাথে পা ফেলা শুরু করেছিল। আমাদের বহু প্রাচীন জ্ঞান-ধারনা এবং বিশ্বাস এই তন্ত্রের মাধ্যমেই সুরক্ষিত রয়ে গিয়েছিল বলেই আর্য সভ্যতা একটা বিশেষ আঙ্গিক পেয়ে প্রগতির চরম উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে আজ এত জনপ্রিয়। অনেকের মনে ধারনা আছে তন্ত্র বেদ থেকে বিশেষ করে অথর্ব বেদ থেকে নিষ্কাশিত হয়ে এসেছে। আমি এই মতে বিশ্বাসী নই কারণ তন্ত্র বেদের থেকে সম্পূর্ণ একটি অন্য ধারা, আর্য সমাজের জীবন চর্যার সাথে তন্ত্রের রীতি নীতি ইত্যাদির কিছু মিল পাওয়া যায় না। বরঞ্চ এটা বলা যায় যে তন্ত্রের সাথে মিশে গিয়ে বৈদিক সভ্যতা তার নিজস্ব পথ থেকে সরে এসে এমন একটা রূপ গ্রহণ করে যা জম্বু দ্বীপের মানুষদের কাছে গ্রহণ যোগ্য হয়।

তন্ত্রের মুল উদ্দেশ্য মানুষের হিত সাধন এবং কেবল মাত্র হিত সাধন। মানবতার যে দিকটি তন্ত্র সকল সময়ে খেয়াল রেখে চলে তা হল সাম্যবাদ। তন্ত্রে প্রত্যেকের সমানাধিকার আছে। কারণ তন্ত্র শিক্ষার কেবল মাত্র একটি মাত্র যোগ্যতা প্রয়োজন হয় তা হল মানব দেহ। মানব আকৃতি এই জন্যই দেবতা, পিশাচ(?) নাগ, গন্ধর্ব, দৈত্য, বানর ইত্যাদি বৈদিক যুগের যে সমস্ত মানব জাতি পরিলক্ষিত হত সকল জাতির মধ্যে তন্ত্র সাধনা লক্ষ্য করা যেতো। তন্ত্রের একমাত্র আরাধ্য দেবতা হলেন পশুপতি শিব। এই জন্যই আমরা আর্য সভ্যতা ভারত ভূমিতে প্রবেশ করবার বহু আগে থেকেই সিন্ধু সভ্যতা ইত্যাদিতে তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ স্বরূপ মূর্তি ইত্যাদি পেয়েছি। তাকে মহেশ্বর এই জন্যই বলা হয়ে থাকে যে ঈশ্বরের ধারনা গঠন করার আগে থেকেই তার অর্চনা সমগ্র বিশ্ব বাসী সেই অনাদি কাল থেকে করে আসছে।

কালপুরুষ নামে যে নক্ষত্র মণ্ডলী আকাশের মাঝে ধনুর্বাণ হাতে শিকারই রূপ গ্রহণ করে আছে সেই হল তার আদি রূপ। সেই অরূপ যখন প্রথম রূপ পরি গ্রহণ করেন তখন তিনি ওই কাল পুরুষ রূপেই প্রথম প্রকাশিত হন, এবং তার পায়ের কাছে যে কুকুর বসে আছে লুব্ধক নামে তিনিই ধর্ম। আমরা তাই আমাদের বৈদিক গ্রন্থ গুলিতে দেখতে পাই ধর্ম দেবতা কে কুকুরের রূপ পরিগ্রহ করতে।

যখন আমরা কোণ জাতি গঠন করিনি তার আগে থেকেই তন্ত্র আমাদের সাথে থাকার জন্যই তন্ত্রে কোন জাতের বিচার নেই এবং জ্ঞান মূলক এই ধর্মে কোন জাতি বিচার প্রয়োজন হয় না। যেটুকু প্রয়োজন হয় তা মানব শরীরের বিচিত্রতার জন্য। এই জন্যই তন্ত্রে জাতি বিচার নেই আছে প্রকৃতি বিচার। জ্ঞান হীন প্রত্যেক মানব দেহই হল পশু দেহ আর এই দেহের কর্তা পশুপতি।

আর আমাদের মন, প্রবৃত্তি সব কিছুই হল একটি পক্রিয়া, যার গতি মানতা এবং কারণ সম্বন্ধ তাকে বিভিন্ন ভাবে ব্যখাত করে থাকে। তন্ত্র কে বুঝতে হলে অনুভব প্রয়োজন। আর সঠিক অনুভবের জন্য মন কে পরিষ্কার রাখা আরও বেশী প্রয়োজন। চিমটাতে করে অঙ্গার তুললে যেমন আমরা তার তাপ অনুভব করতে পারি না , সংস্কার মুক্ত মন ছাড়া তেমনি তন্ত্র কে কোন দিন অনুভব করা যাবে না।

কারণ আমরা ছোট বেলা থেকেই অনেক কথা শুনে শুনেই বিশ্বাস করে নিয়ে থাকি, সেই কথা গুলিকে ত্যাগ না করলে মিথ্যার অতল সাগরে থেকে কিভাবে আমরা এই সর্ব জন গ্রাহ্য লোক মঙ্গলকারী স্বয়ং শিব হতে আগত এই মহা জ্ঞান গঙ্গা তে স্নান করতে পারবো। তবে হ্রদয়ে যদি চেষ্টা থাকে তাহলে সমগ্র শরীর সেই রাস্তা খুঁজে পাওয়ার জন্য উৎসুক হয়ে থাকে। সামান্য তম চেষ্টা তেই তখন সাফল্য এসে যায়। এর জন্য চোখ বুজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকার প্রয়োজন অনেক সময় পড়ে না। মানুষ চাঁদে যাওয়ার কথা ভেবেছিল বলেই আজকে সে চাঁদে চাষবাস করার কথাও ভাবছে। আমাদের সেই চেষ্টা টুকু করতেই হবে। না হলে মূর্তি আর উপাসনা ঘরে পৃথিবী ভর্তি হয়ে গেলেও ধর্মের এক পা হাঁটাও হবে না। তন্ত্র ই এক মাত্র এমন ধর্ম যার জন্য মানুষের কোন মূর্তি বা উপাসনার প্রয়োজন নেই, প্রকৃতির বিস্তৃত চারণ ভূমিই তান্ত্রিকের মন্দির, প্রকৃতির একটি অণু ই তার চিন্ময় মূর্তি।

Monday, December 09, 2013

শিব-গীতা

শিব-গীতা

প্রথম অধ্যায়

প্রথমে প্রনতি জানাই দেব নারায়ণে।

জয় দেবি সরস্বতি মতি শিব জ্ঞানে।।

কহিলেন সূত সব ঋষিগন প্রতি।

গীতা শাস্ত্র অধ্যয়ন মুক্তিদায়ী অতি।।

মহেশের অনুগ্রহে করিনু ব্যাখ্যান।

মহাদুখঃ তরিবার শিব উপাখ্যান।।

বেদকর্ম, দান, তপ যত করা যায়।

মানব কৈবল্যপদ কভু নাহি পায়।।

কৈবল্য লাভে পথ কিছু নাই আর।

একমাত্র জ্ঞানই পথ শুদ্ধ জ্ঞান সার।।

পুরাকালে দণ্ডবনে শুনিলেন রাম।

শিবমুখে গোপনীয় শিব উপাখ্যান।।

যা স্মরণে মানবের মুক্তি হয় ত্বরা।

স্কন্দ হতে শুনেছিল সনৎ কুমারেরা।।

ব্যাসদেব তাহা শুনে কুমার দ্বয় হতে।

কৃপা করি বলিলেন এই সূতপুতে।।

করি সাঙ্গ উপাখ্যান ব্যসদেব কহে।

কহিওনা তারে যে অধিকারী নহে।।

আমার বাক্যের যদি করহে অন্যথা।

দেবগণ রুষ্ট হয়ে শাপ দিবে তথা।।

অনন্তর জিজ্ঞাসিনু দেব বেদব্যাসে।

দেবগন রুষ্ট হবেন কিসের অভ্যাসে।।

কি কারনে তাহাদের হইবে কি হানি।

ক্রুদ্ধ হবে দেবগন ইচ্ছা হয় জানি।।

তাহা শুনি কহিলেন পরাশরসূত।

কারন শ্রবণ কর অতীব অদ্ভূত।।

নিত্য অগ্নিহোত্রে রত যতেক ব্রাহ্মণ।

কামধেনু রূপ মানে সর্ব দেবগণ।।

ভক্ষ্য, ভোজ্য, পেয় যা ইষ্ট পদে দান

স্বর্গে থেকে দেবগণ অগ্নি দ্বারা পান।।

ইহা ছাড়া দেবগনের অন্য পথ নাই।

অগ্নি ভুখ দেব মুখ বলা হয় তাই।।

গৃহ ছাড়ি দুগ্ধবতী অন্য কোথা গেলে।

গৃহ নিমজ্জিত হয় দুখঃ হলাহলে।।

বিপ্রগণ লভে যদি এই ব্রহ্ম জ্ঞান।

যাগ যজ্ঞ হীন হয় দেব দুখঃ পান।।

বিষয়ের বিষ ঢালি তাই দেবগণ

সদাই ব্যাস্ত রাখে মানবের মন।।

স্ত্রী-পুত্র-সংসারে মন ন্যাস্ত রয়।

জীবগনে শিব জ্ঞান কভু নাহি হয়।।

যদি বা শিব জ্ঞান কভু সমুদ্ভবে।

মধ্য পথে বিঘ্ন ফলে বিচ্ছিন্নতা লভে।।

দয়া করে যদি শিব দেন দরশন।

চিনেও না চিনে তারে অবিশ্বাসী মন।।

এতেক শুনি মুনিগন সূতেরে জিজ্ঞাসে।

পুরুষের মুক্তি সাধন হবে তবে কিসে।।

দেবগণ হন যদি তাহে অন্তরায়।

শিবজ্ঞান হবে তবে কহ কি উপায়।।

কহিলেন সূত - মুনি জানহ নিশ্চয়।

কোটি জন্ম পুন্যফলে শিবে ভক্তি হয় ।।

সকল কামনা হীন হইয়া তখন।

ইষ্ট-পূর্ত্ত সকল কর্ম করে শিবার্পণ।।

শম্ভূ অনুগ্রহে তবে দৃঢ় হয় নর।

বিঘ্ন হেতু ভয়ে ডরে যত সুরেশ্বর।।

বিঘ্ন দূরীকৃত হলে ভক্তি তৃষ্ণা জাগে।

শিব চরিত শুনি মনে বড় ভাল লাগে।।

শুনিতে শুনিতে কথা জ্ঞান উপজয়।

শিব জ্ঞান হলে পরে তবে মুক্তি হয়।।

কি কহিব কি বলিব শিবে ভক্তি অতি।

পঞ্চপাপ কোটিপাপ সকল বিমুচ্যতি।।

শিব ভক্তি সম্পন্ন অতি মূর্খ জন।

পলকেই নাশ করে সংসার বন্ধন।।

যেই জন ভক্তি করে বা করে দ্বেষ।

উভয়েরই ইচ্ছা পূরন করেন মহেশ।।

ভক্তিভরে তারে যদি দাও ফুল ও জল।

ত্রি জগত দেন তিনি হইয়া কুশল।।

ফুল-জল নাহি পাও কর নমস্কার।

অর্দ্ধ প্রদক্ষিণে তিনি হন চমৎকার।।

প্রদক্ষিণে অশক্ত হও কর চিন্তা তাহে।

সর্ব্ব অভীষ্ট সিদ্ধ হবে শিব অনুগ্রহে।।

বেলকাঠের চন্দন আর বন্য পুষ্প-ফলে।

যে জন প্রীত হয় ভক্তি সহ দিলে।।

তার সেবা করা বল কি আর দুষ্কর।

কিছু না পাহিলে তবে হাত জোড় কর।।

বন্য দ্রব্যে তিনি হন যাদৃশী খুশী।

গ্রাম্য দ্রব্যে উত্তম দ্রব্যে না হন তাদৃশী।।

সুখলভ্য শম্ভূ ছাড়ি যে পূজে অন্য নাম।

ভাগীরথী ছাড়ি সে মৃগতৃষ্ণিকাম্‌।।

বিদ্যা-অবিদ্যা

তন্ত্র সাধনা দুই রকমের হয়ে থাকে বিদ্যা সাধনা অবিদ্যা সাধনা নিজের কুণ্ডলিনী শক্তিকে জাগ্রত করে তার যে অপার আনন্দময় অনুভূতি তা জগৎ জীবনের উন্নতিকল্পে নিয়োজিত করা হল বিদ্যা সাধনার লক্ষ্য এবং অবিদ্যা সাধনার সাহায্যে সেই শক্তিকে জাগ্রত মনে করে নিজের স্বার্থ সিদ্ধি ইত্যাদি নানা রকম আভিচারিক ক্রিয়া করে নিজের এবং অপরের পরোক্ষে ক্ষতিসাধন করা খুবই নিকৃষ্ট মানের তন্ত্র সাধনা 
আজকাল তন্ত্র সাধনার একটা হিড়িক দেখা যায় তথা কথিত তান্ত্রিক গন বশীকরণ সহ যে সমস্ত নিজ গুণ বিজ্ঞাপিত করে থাকেন তা কতদূর সম্ভাবনা ময় তা বৈজ্ঞানিক আধুনিক মানসিকতা সম্পন্ন জিজ্ঞাসুরাই ঠিক করবেন আমার আবেদন শুধু এইটুকু যে প্রতারিত হবেন না। এতে বিশ্বাস নষ্ট হয়। এই সমগ্র পৃথিবী তার অলৌকিক ক্রিয়া সমূহ নিয়ে আপনাদের সামনে সকল সময়ই প্রত্যক্ষ আছেন। শুধু শুধু কেন সামান্য মানুষের মানসিক বিকারের প্রত্যাশী হবেন। তন্ত্র বিদ্যা কেবল মাত্র প্রাচীন বিজ্ঞান। তাই তন্ত্রকে জানতে অবশ্যই বিজ্ঞানের সহায়তাতেই জানতে হবে। এর কোন অন্য পদ্ধতি নেই। সুতারং মানুষের বিশ্বাস নিয়ে ছেলে খেলা করে এমন তান্ত্রিক দের ভণ্ডামি দেখলেই প্রতিবাদ করুন।
যেনে রাখবেন সেই তান্ত্রিক শক্তিমান যে ব্রহ্মাণ্ডের সকল বস্তুর ভালো চান, সকল প্রাণীর সামান্যতম ব্যথা যার হৃদয়ে যন্ত্রণার উদ্রেক করে সেই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের সাথে একাত্ম। সুখ দুখে যিনি সমদর্শী তিনি কাউকে সুখ দিতে গিয়ে অপরজনকে দুঃখ কিভাবে দিতে পারেন। তাই শত্রু বিনাশ মন্ত্র দিয়ে হয় না। তার জন্য দরকার নিজের আচরণের পরিবর্তন। আর তান্ত্রিক যদি মন্ত্র মেরে সকল কিছু করে দিতে পারতো তাহলে তার ভাত টুকু মন্ত্র মেরে যোগাড় করে নিতে কতক্ষণ সময় লাগত। টাকার বিনিময়ে তান্ত্রিক যদি কর্ম করে জানবেন সে তান্ত্রিক নয় তান্ত্রিকের রূপ ধারী শয়তান। বলা হয়ে থাকে তন্ত্র বিদ্যা দেবাদিদেব মহাদেব হতে আগত। বলুন তো মহাদেব কত টাকা নিয়েছিলেন এই বিদ্যা দেওয়ার জন্য।
তন্ত্র এই সব ঠুনকো জাগতিক ব্যাপার নয়। এ এক মহাবিদ্যা। এর সঠিক আচরণে জীবন ও জগৎ সম্বন্ধে আপনার সম্যক জ্ঞান জন্মায়। যা আপনার চোখের সামনে থেকে অজ্ঞানতার আবরণ সরিয়ে পৃথিবীর সকল রহস্য কে উন্মোচিত হতে সাহায্য করে। অন্ধকার থেকে আলোর জীবনে নিয়ে আসে। আর এর প্রণেতা তিনি সেই কৈলাস শিখর নিবাসী মহান বিজ্ঞানী।
দ্রব্যগুণ দেখে যদি অবাক হয়ে থাকেন তাহলে বলি প্রত্যেক দ্রব্যের নিজস্ব গুণ তো অবশ্যই থাকবে। নুন খেলে নোনতা লাগবে, আবার ক্লোরোফর্ম শুঁকলে অজ্ঞান তো হতেই হবে। তাই অবিদ্যা তান্ত্রিকরা যদি আপনাকে দ্রব্যগুণ দেখিয়ে মোহিত করে ফেলে তার জন্য বলে রাখি মন যদি আপনার বৈজ্ঞানিক পথ না ছাড়ে তাহলে আপনার ঠকবার ভয় থাকে না।

আর একটা কথা বলা উচিত, শব্দার্থ বিচারে তন্ত্র শব্দের মানে যদি করা হয়ে থাকে শরীর সম্বন্ধীয় তাহলে তা ভুল। তন্ত্র হচ্ছে তা, যা সমস্ত জাগতিক জিনিস কে ব্যাখ্যা করে জগৎ সম্বন্ধে আমাদের ভুল ধারনা গুলিকে দূর করে অজ্ঞানতা থেকে মুক্তি দেয় বা ত্রাণ করে। আপনার সেই পঞ্চ ইন্দ্রিয় হল সেই সদাশিবের পাঁচটি মুখ যা দিয়ে আপনি এই জগত সম্বন্ধে সকল তথ্য আরহন করে থাকেন। সেই পরমেশ্বরের সকল কিছুই প্রপঞ্চ ময়। একটা প্রশ্ন নিজেকে করে দেখুন পৃথিবীর বেশীর ভাগ ফুলেই কেন পাঁচটি পাপড়ি থাকে? কি অলৌকিক না! জয় শিব শম্ভু।

Monday, September 02, 2013

তন্ত্র কি?

তন্ত্র কথাটির নানা বিধ অর্থ আমরা নিরূপণ করে থাকি- কিন্তু তার মধ্যে সাধারন ভাবে যেটা সর্বজন গ্রাহ্য সেটা হল 'যা তনু অর্থাৎ শরীর কে ত্রান বা রক্ষা করে'।

তাহলে সোজা ভাবে যা শরীর রক্ষা করার পদ্ধতি বিশেষ হল তন্ত্র। তাহলে কি চিকিৎসা শাস্ত্র কে আমরা তন্ত্র বলতে পারি? বা ব্যায়াম -যোগ- প্রাণায়াম ইত্যাদি কে? কেন নয়? অবশ্যই পারি।
প্রাচীন কালে মানুষের কাছে যখন এই পৃথিবীর অনেক কিছুই রহস্যময় মনে হত। বিজ্ঞানের আলো যখন সেই অন্ধকার কোন গুলিকে আলোকিত করতে পারে নি, তখন সেই রহস্যময় পৃথিবীর দুর্বার রূপকে ভয় পেয়ে মানুষ সৃষ্টি করেছে ধর্মের। তার সীমিত ক্ষমতা দিয়ে সে ব্যাখা করতে চেয়েছে এই অসীম মহাবিশ্বের। একাগ্র চিত্তে তার বুদ্ধি বৃত্তিকে কাজে লাগিয়ে অসীম কে ব্যাখা করতে করতে আজ সে এই আধুনিক যুগে উপনীত হয়েছে। কিন্তু যখন সেই আদিমে ছিল তখন সে বুঝে ছিল তার শরীরের প্রয়োজনীয়তা কি! শরীর রক্ষা করার তাগিদে সে গাছ তলা ছেড়ে গুহায় গিয়ে ঢুকেছে, বল্কল থেকে পশু চামড়া থেকে পশমে পৌঁছে গিয়েছে। তাই সেই শরীর কে রক্ষা করার পদ্ধতি গুলি সে ক্রমশ লক্ষ্য করেছে, কি ভাবে শরীর সুখ পায় সেই দিক গুলি অনুশীলন করার চেষ্টা করেছে। শরীরের স্বাভাবিক গতি লঙ্ঘিত হলে কি করনীয় সেই বিষয় গুলি সম্বন্ধে চিন্তা ভাবনা শুরু করেছে। এটাই তন্ত্র আর এটাই আমাদের চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্ম কাহিনী।

তখন বিজ্ঞান অনুন্নত থাকার ফলে মানুষ কারন গুলির ব্যাখা করতে না পেরে সাহায্য চেয়েছে তার সামনে থাকা অসীম মহা জাগতিক শক্তির কাছে। এই সাহায্যের আশায় বসে থাকতে থাকতে বুঝতে পেরেছে কি ভাবে অনেক ক্ষন বসে থাকা যায়, বুঝতে পেরেছে সেই মহা জাগতিক শক্তি কি ভাবে মানুষের শরীরের মধ্যেও ব্যাপ্ত হয়ে আছে, বুঝতে পেরেছে মানব শরীরের ভেতরের মন কে এবং মনেরেও ভেতরে থাকা আরো একটি মন কে। আর সেই সবই ব্যখাত হয়েছে তন্ত্রের মাধ্যমে। যুগ যুগ ধরে চলে আসা মানব জাতির এই মহান অনুসন্ধান কি একেবারেই মিথ্যা হতে পারে?

বিজ্ঞান আমাকে অবিশ্বাস নয় ব্যাখা দিয়েছে। প্রাচীন ঋষি রা যাকে বলেছেন 'তেজ' আধুনিক বিজ্ঞানিরা তাকে বললেন 'ফোটন' এবং ভব্যিষতের বিজ্ঞানিরা তাকে হয়তো আরো ব্যাখা করতে পারবেন। আমি আমার সাধারন বোধ বুদ্ধি দিয়ে যা বুঝবো তা লিখে যাবো। তন্ত্র কি? এর ব্যাখা খুঁজতেই এই ব্লগের সূচনা।
আমি বাংলা টাই ভালো বুঝি তাই বাংলাতেই আমার নিজস্ব কথা লিখবো-  

Sunday, September 01, 2013

Shubhamastu



Om Namah Shivay

The best protector from evil is Lord Shiva. Only he can save and shield you. Aghora is one of Lord Shiva's furious forms.  What is the best & easiest and most strongest way to protect yourself & your loved one’s from evil eye witchcraft and Black Magic and politics.
 

Nataraja


Nataraj
Nataraja

Tantrik

Tantrik
Tantrik

Yabyum

Yabyum
Yabyum